সোনারপুরে নিহত দলীয় কর্মীর বাড়ি যাওয়ার সময়ে শনিবার প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়লেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ধাক্কাধাক্কি-টানাহেঁচড়া করা হয় তাঁকে। বাঁচতে হেলমেট পরতে হয় অভিষেককে। তারপরে নিহত কর্মীর বাড়ি গিয়ে তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেন অভিষেক। সেখানেই হেনস্থার ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। অভিষেক বলেন, ‘ওরা আমার প্রাণে মারতে চায়। মেরে দিক, আমার মৃতদেহ উদ্ধার হোক এখান থেকে। কিন্তু আমি জায়গা ছেড়ে যাব না। আমি সঞ্জুর বৃদ্ধ বাবা-মাকে এ অবস্থায় ছেড়ে যাব না। যতক্ষণ না ফোর্স আসছে।’ যাঁরা হেনস্থা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তিনি সেই জায়গা ছেড়ে যাবেন না বলেও জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘রাত ১২টা বাজলেও আমি এখানে থাকব।’
অভিষেকের অভিযোগ, তাঁকে যখন হেনস্থা করা হচ্ছিল, সেই সময়ে কোনও পুলিশকর্মী ছিলেন না। দ্রুত যাতে আরও বাহিনী আসে, তার জন্য দলের কর্মীদের থানায় যোগাযোগ করতে বলেন তিনি। কিছুক্ষণ পরেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর কর্মীদের ওই এলাকায় ঢুকতে দেখা যায়। অবশেষে সোনারপুর থানা থেকে পুলিশ পৌঁছয়। বারুইপুর পুলিশ জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ যায় এলাকায়। যে বাড়িটিতে অভিষেক রয়েছেন, সেই বাড়িটি ঘিরে নিয়েছে পুলিশ। বেশ কিছুক্ষণ পরে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও সোনারপুর থানার পুলিশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাইরে বের করে নিয়ে আসেন।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিজেপি এর সঙ্গে যুক্ত নয়।’ এই ধরনের হেনস্থার ঘটনাকে বিজেপি সমর্থন করে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। শমীকের মন্তব্য, ‘তৃণমূল দক্ষিণ ২৪ পরগনায় যা করেছে, বিজেপি যদি চাইত তৃণমূল নেতারা ঘর থেকে রাস্তায় বেরোতে পারতেন না। বিজেপি সংযম বজায় রেখেছে বলেই অভিষেক সোনারপুর পৌঁছতে পেরেছে বলে জানান তিনি।’