• ওয়েব সিরিজ় দেখেই খুনের ছক, রাজস্থানে প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান-সহ চার জনের মৃত্যতে ধৃত নাবালক ছেলে
    এই সময় | ৩১ মে ২০২৬
  • গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে আগুনে ঝলসে মৃত্যু হয়েছে বাবার। অথচ, তার কোনও অভিঘাতই দেখা যাচ্ছে না নাবালক ছেলের মধ্যে। তার চোখে-মুখে নির্লিপ্ত ভাব। শোকের লেশ মাত্র নেই। উল্টে গোটা পরিবার যখন কান্নায় ভেঙে পড়েছে, তখন সে বসে বসেে চা খাচ্ছে! এই দৃশ্যই প্রথম নজর কেড়েছিল। তার পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখতেই তদন্তে যা উঠে এল, তাতে কার্যত চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের। তাঁরা বুঝতে পারলেন, রাজস্থানে আজমেরে একই পরিবারের চার জনের মৃত্যু গাড়ি দুর্ঘটনায় ঘটেনি। তাঁদের পরিকল্পিত ভাবেই খুন করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি গাড়ির ভিতরে প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান রামসিং চৌধরি, তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী সুরজ্ঞান, মা পুষি দেবী এবং ভাইঝি মহিমার ঝলসানো দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে নেমেই পুলিশের প্রথম সন্দেহ হয় রামসিংয়ের বছর সতেরোর ছেলেকে। তার কিছু আচরণই তদন্তকারীদের চোখে লাগে। পুলিশ সূত্রে খবর, বাবার মৃত্যুর পরেও সে বড্ডই শান্ত ছিল। মাঝে মাঝে মা (যিনি রামসিংয়ের প্রথম স্ত্রী)-কে সান্ত্বনা দিচ্ছিল। কিন্তু ওইটুকুই। তা বাদ দিয়ে সে পুরোপুরিই নিরুত্তাপ ছিল।

    তদন্তকারী সূত্রে খবর, রামসিংয়ের পরিবারের লোকেরা প্রথমে দাবি করেছিলেন, অসুস্থ মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন রামসিং। সেই সময়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। তাতেই সকলের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এখানেও তদন্তকারীদের মনে প্রশ্ন জাগে, কেন গাড়ির সামনের আসনে কেউ ছিলেন না? আর আগুনে পুড়েই যদি মৃত্যু হয়ে থাকে, তা হলে সূর্যজ্ঞানের দেহে ছুরির আঘাতের চিহ্ন কোথা থেকে এল? এই সব প্রশ্ন থেকেই সন্দেহে জন্ম হয়। তার পরেই রামসিংয়ের ছেলেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ।

    পুলিশ সূত্রে খবর, নাবালককে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, সে নিয়মিত অপরাধ সংক্রান্ত ওয়েব সিরিজ় দেখত। সম্ভবত সেখান থেকেই খুনের পরিকল্পনা করে সে। খুনের পর কী ভাবে তথ্যপ্রমাণ লোপাট করা যায়, তা ইন্টারনেটে সে খুঁজেছিল। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ঘটনার রাতে রামসিং এবং তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর উপর নজর রেখেছিল ওই কিশোর। পুলিশের সন্দেহ, রাত ৪টে পর্যন্ত মোবাইলে গেম খেলে সে। তার পর রামসিংয়ের ঘরে ঢোকে। প্রথমে ছুরি দিয়ে রামসিংকে কোপায়। আওয়াজে সূর্যজ্ঞানের ঘুম ভেঙে যায়। তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সেই সময়ে তাঁকেও কোপানো হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগ, রামসিংয়ের প্রথম স্ত্রী এবং কন্যা এই কাজে কিশোরকে সাহায্য করেছিলেন বলে অভিযোগ। পরে পাশের ঘরে গিয়ে রামসিংয়ের মা-ভাইঝিকেও খুন করা হয়। তার পর চার জনের দেহ গাড়িতে তুলে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

  • Link to this news (এই সময়)