• আমরা সংযত বলেই তৃণমূল অক্ষত: শমীক ভট্টাচার্য
    আজকাল | ৩১ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোনারপুরে জনরোষের মুখে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে তাঁকে নিশানা করে পাথর, ডিম, জুতো ছোঁড়ে উত্তেজিত জনতা। ছিঁড়ে দেওয়া হয় অভিষেক ব্যানার্জির জামা। নিরাপত্তার স্বার্থে কোনও মতে অভিষেককে হেলমেট পরে মৃত দলীয় কর্মীর বাড়িতে পাঁছন। বিষয়টিকে নিছকই জনরোষের প্রতিফলন বলে দাবি করেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বিজেপি এই হামলার সঙ্গে জড়িত নয় বলেও সাফ বলেছেন তিনি।

    কী বলেছেন শমীক?বাংলা জয়ের পর থেকে দলীয় কর্মীদের সংযত থাকার বার্তা দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। পুলিশকেও নিরপেক্ষ হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শুভেন্দু সরকারের পক্ষে। শনিবার সোনারপুরের ঘটনা প্রসঙ্গে শমীক বলেন, "এগুলো কোনও সুস্থ সমাজের লক্ষণ নয়। এই নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করে দিয়েছে যে, ঔদ্ধত্য, একদলীয় ও একচেটিয়া, একাধিপত্যবাদ দীর্ঘদিন চলতে পারে না। কারো ক্ষোভ, বিদ্ধেষ থাকতে পারে, কিন্তু এটা সুস্থ গণতন্ত্রে চলতে পারে না। এর সঙ্গে আমার দল যুক্ত নয়।'

    মৃত কর্মীর বাড়ি পৌঁছে অভিষেক ব্যানার্জি পুলিশ প্রশাসনকে দায়ী করেছেন। পাল্টা রাজ্য বিজেপি সভাপতি বলেছেন, "পুলিশ কী করছিল তা আমি বলতে পারব না, কারণ আমি দলের প্রতিনিধি। এটা রাজ্য সরকার বলতে পারবে।"

    এরপরই মমতা সরকারের আমলে তৃণমূল নেতা, কর্মীদের একের পর এক 'কীর্তি' তুলে ধরেন শমীক। বলেন, "মনে রাখবেন, গত পাঁচ বছরে  বিরোধী দলনেতাকে উত্তরবঙ্গে জীবন্ত জ্বালিয়ে মারার চেষ্টা হয়েছিল। সভা-সমিতি করার জন্য ১০৪ বার তাঁকে হাইকোর্টের দরবারে যেতে হয়েছিল। যা অত্যাচার তৃণমূল করেছিল, তারপরও আমরা সংযত আছি বলে আজ তৃণমূল অক্ষত আছে।"  

    অত্যাচারের বর্ণনা দিতে গিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি বলতে থাকেন, "মায়ের সামনে ছেলে ভাত খাচ্ছে, তাঁকে গুলি করে খুন, মহিলাদের মাতা ন্যাড়া করে থুথু চাটানো, বিজেপির হয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন বলে তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা-সহ শত শত উদাহরণ রয়েছে। তারপরও যে ওরা যে তৃণমূলের মন্ত্রী, নেতা, কর্মীরা অক্ষত আছে তার কারণ বিজেপি।"

    তৃণমূল সরকারের প্রত্যাবর্তন হলে কী ঘটত তাও তুলে ধরেন শমীক। তিনি বলেন, "তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরলে আমি দাঁড়িয়ে থাকতাম না। ৫০০ কর্মী আমাদের খুন হয়ে যেত। আর কংগ্রেস-সিপিআইএম ক্ষমতায় এলে ওরা বিবৃতি দেওয়ার ক্ষমতায় থাকত না।"

    তবে শেষপর্যন্ত রাজ্য বিজেপি সভাপতির মন্তব্য, "রাজনীতিতে এসব থাকবে না। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকে হিংসামুক্ত করার জন্য মানুষ রায় দিয়েছেন, সেটাকে সম্মান করুন।"
  • Link to this news (আজকাল)