আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোনারপুরে প্রবল জনরোষে আহত তৃণমূল সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি। সোনারপুরে মৃত তৃণমূল কর্মীর আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করেই সোজা এক বেসরকারি হাসপাতালে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে তড়িঘড়ি পৌঁছন মমতা ব্যানার্জিও। কিন্তু তৃণমূল সুপ্রিমোর অভিযোগ, সেখানে অভিষেকের ট্রিটমেন্ট যথাযথ হচ্ছে না। শনিবার সন্ধ্যায় দ্রুত সেই হাসপাতাল থেকে অভিষেককে আরেক হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেন মমতা।
এদিন প্রথমে বাইপাসের ধারে অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল অভিষেককে। সেখানেই প্রথমে তাঁকে দেখতে যান মমতা। এর খানিকক্ষণ পর বেলভিউ হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন তৃণমূল সাংসদ। সেখানেও অভিষেকের সঙ্গে রয়েছেন মমতা।
প্রসঙ্গত, সোনারপুরে অভিষেক ব্যানার্জি পৌঁছতেই শুরু হয় তুলকালাম। মৃত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে যাওয়ার মাঝপথেই অভিষেককে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ শুরু হয়। মুহূর্তে পরিস্থিতি হয় ধুন্ধুমার। প্রথমে চোর চোর স্লোগান। পরে তাঁকে উদ্দেশ্য করে ঢিল, ডিম, জুতো ছোঁড়া হয়। দেখানো হয় কালো পতাকা। প্রবল জলরোষের জেরে নিরাপত্তার স্বার্থে অভিষেককে হেটমেট পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সময় ছিঁড়ে যায় অভিষেকের সাদা জামা।
এরপর অভিষেক বলেন, এখনও একমাস হয়নি। তার মধ্যেই এই অবস্থা। পুলিশকে বারবার বলা সত্ত্বেও এই ধরণের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এরপর তিনি মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেন। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন। সেখানে গিয়ে অভিষেক বলেন, "আমাকে মারার চেষ্টা করা হচ্ছে। মেরে দিক আমাকে। আমি এর শেষ দেখে ছাড়ব। একটা পুলিশ নেই। দরজা ভাঙার চেষ্টা চলছে।"
দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে অভিষেকের নির্দেশ, "এইরকম ঘটনা ঘটলে পুলিশকে হোয়াটসঅ্যাপ করে রাখুন। রেকর্ড থাকবে। আজকের ঘটনা নিয়ে আমি আদালতের দ্বারস্থ হব।"
এরপর কিছুক্ষণ পর অভিষেক ব্যানার্জির ওপর হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, শাসক হল হত্যাকারী। বিজেপির লজ্জা করা উচিত।