ওষুধ কিনতে গিয়ে বেপরোয়া বাইকের ধাক্কায় প্রাণ গেল কিশোরের, বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত আরও ৩
News18 বাংলা | ৩১ মে ২০২৬
মুর্শিদাবাদ জেলায় দু’টি পৃথক সড়ক দুর্ঘটনা। বেপরোয়া বাইকের ধাক্কায় একদিকে যেমন প্রাণ গেল ১৪ বছরের এক কিশোরের, অন্যদিকে বাসের সঙ্গে মোটরবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর জখম হলেন আরও তিন যুবক। দুটি ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে ভগবানগোলা থানার অন্তর্গত ছাতনাতলা এলাকায়। স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নৌদাপাড়া এলাকার বাসিন্দা, ১৪ বছরের কিশোর সাবিরুল শেখ ওষুধ কেনার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছিল।
ছাতনাতলা এলাকায় রাস্তার পাশে একটি ওষুধের দোকানের সামনে সে দাঁড়িয়ে ছিল। সেই সময় সকলনগর এলাকার দুই যুবক সাকিব শেখ ও জাহিদ শেখ অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে মোটরবাইক চালিয়ে এসে সাবিরুলকে সজোরে ধাক্কা মারে বলে অভিযোগ। দুর্ঘটনার জেরে মাথায় গুরুতর আঘাত পায় ওই কিশোর। স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কানাপুকুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় মোটরবাইক আরোহী ওই দুই যুবকের মাথাতেও চোট লেগেছে বলে জানাযায়। মৃত কিশোরের মামা জলিল উদ্দিন শেখ ওরফে বাবুল ও দিদা গলেনূর বেওয়া ঘটনার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় প্রায়শই এমন বেপরোয়া বাইক চালানোর রেওয়াজ চলছে। তাঁরা প্রশাসনের কড়া নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। কিশোরের অকাল মৃত্যুতে গোটা নৌদাপাড়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ”এলাকায় প্রতিনিয়ত বাইকের দাপট বাড়ছে। প্রশাসন অবিলম্বে কড়া পদক্ষেপ না নিলে এমন আরও কত তাজা প্রাণ চলে যাবে, মন্তব্য ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দার। অন্য আরেকটি ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কান্দি-সালার রাজ্য সড়কের ভরতপুর ডাঙ্গাপাড়া এলাকায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভরতপুর নতুনপাড়ার বাসিন্দা সঞ্জু সেখ এবং ডাঙ্গাপাড়ার দুই বাসিন্দা হাসান সেখ ওরফে শুকুর ও আজিজুর রহমান, এই তিন বন্ধু মিলে একটি মোটরবাইকে চেপে ভরতপুর থেকে আঙ্গারপুরের দিকে যাচ্ছিলেন।
ডাঙ্গাপাড়ার কাছে একটি বাসকে ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা বর্ধমানগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে তাঁদের বাইকটির মুখোমুখি জোরালো সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাকি দুই আরোহী ছিটকে পড়লেও, বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে যায় বাইক চালক হাসান সেখের পা। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে ভরতপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর সঞ্জু ও আজিজুরকে ছেড়ে দেওয়া হলেও, হাসানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। খবর পেয়ে ভরতপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘাতক বাসটিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।