বর্ধমানে বালির অবৈধ কারবারে রাশ টানতে দাম বাঁধল জেলা প্রশাসন, মজুত করার জন্য চার কোটি টাকা আদায়
দৈনিক স্টেটসম্যান | ৩১ মে ২০২৬
পূর্ব বর্ধমানে অবাধ বালি চুরিতে রাশ টানতে শনিবার সরকারের তরফে নির্দেশ জারি করা হল। এবার থেকে সবাইকে এক দামে বালি বিক্রি করতে হবে ইজারাদারদের। নিয়ম না মানলে কড়া ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অবৈধ খাদান বন্ধ করতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বালি মজুত করে বিক্রি করা যাবে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়। এরই মধ্যে গত দু’দিন ধরে বেআইনিভাবে বালি মজুত করার জন্য জেলা প্রশাসনের তরফে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। জরিমানা আদায় করা হয়েছে প্রায় চার কোটি টাকা । যারা এসব কাজে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের তরফে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
পূর্ব বর্ধমানে দামোদর নদে বালি তোলাকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার ব্যাবসা চলে। যার ফলে গলসি থেকে শুরু করে জামালপুর পর্যন্ত সিন্ডিকেট রাজ নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। কিন্তু পালা বদলের পর সরকারি নিয়ম মেনে এবার থেকে বালির কারবার চালু থাকবে বলে জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। ইজারাদাররা সঠিকভাবে রাজস্ব জমা দিয়ে তবেই ব্যাবসা চালাতে পারবে বলে নির্দেশ জারি করা হয়। এর বাইরে অবৈধভাবে কোনও খাদান চলবে না বলে কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। এমনকি বেআইনি মজুতের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়াল এর নির্দেশ মতো শুক্রবার জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে দামোদর নদে হানা দেয় ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর। সদরঘাট সহ খণ্ডঘোষ, গলসিতে হানা দিয়ে অনিয়ম ধরা পড়ে।
ইজারাদারদের শো- কোজ করার পর তাদের কাছ থেকে বেআইনি মজুতের জন্য চার কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। জানিয়ে দেওয়া হল এবার থেকে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হবে। এছাড়াও নিয়ম বর্হিভূত ভাবে বালির কারবার চালানোর জন্য ১০ জন ইজারাদারকে শো- কোজ করা হয়েছে। দীর্ঘ বছর পর জেলা প্রশাসনের এই পদক্ষেপে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা বালি কারবারে এতদিন যে যেমন খুশি দাম আদায় করতো। সেই অনিয়ম রুখতে জেলা প্রশাসনের তরফে দাম বেঁধে দেওয়া হল। এবার থেকে এক ট্রাক্টর অর্থাৎ ১০০ সিএফটি বালির দাম নিতে হবে ১২০০ টাকা।
এর বেশি দামে বিক্রি হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দামোদর নদে যেখানে সেখানে অবৈধ খাদান খোলা যাবে না। এর জন্য নদীর পাড় বরাবর নজরদারি চালাবে পুলিশ এবং ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর। দীর্ঘদিন ধরে বালির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ ও গরিব মানুষ সমস্যার মুখে পড়ছিলেন। এক ট্রলি বালির দাম যেখানে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকায় পৌঁছে গিয়েছিল, সেখানে এখন সেই দাম অনেকটাই কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে দাবি সব মহলের। বালির দাম যাতে বেশি না নেওয়া হয় তার জন্য বিভিন্ন এলাকার বিধায়করাও খোঁজ খবর রাখবেন বলে জানানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে তাদের কাছেও অভিযোগ জানানো যাবে।