• ট্রাম্পের কঠোর শর্তে অচলাবস্থা, ইরান-আমেরিকা চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ৩১ মে ২০২৬
  • ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং নতুন সমঝোতা নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি আমেরিকা। হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নিয়ে প্রায় দু’ঘণ্টার বৈঠক করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেননি। তবে তাঁর প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, ট্রাম্পের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ বা কঠোর শর্ত পূরণ না হলে কোনও চুক্তিই হবে না।

    হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গিয়েছে, এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু মূল কয়েকটি বিষয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থান এখনও বিপরীত মেরুতে। ট্রাম্পের প্রধান শর্ত দুটি—হরমুজ প্রণালীর উপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার করে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া এবং ইউরেনিয়ামের ভাণ্ডার আমেরিকার হাতে তুলে দিয়ে ভবিষ্যতে পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।

    ট্রাম্প তাঁর পোস্টে আরও দাবি করেছেন, হরমুজে পাতা সমুদ্র-মাইন সরাতে হবে এবং ইরানকে স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগ করতে হবে। তবে ইরান এখনও এসব শর্তে সম্মত হয়নি। বরং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকার জানিয়েছে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমেরিকার পরিবর্তে রাশিয়ার কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে তারা আগ্রহী।

    অন্যদিকে, ইরানের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, আলোচনা চললেও এখনও কোনও চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। তেহরানের দাবি, হরমুজ প্রণালী ও ইউরেনিয়াম মজুতের প্রশ্নে তারা নিজেদের সার্বভৌম অধিকার থেকে সরে আসবে না। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশ ইউরেনিয়ামের অধিকার বা মজুত কোনওটাই ছাড়বে না।

    এদিকে সিঙ্গাপুরে ‘শাংগ্রিলা ডায়ালগ’-এ যোগ দিতে গিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে সমঝোতা না হলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ফের শুরু হতে পারে। ফলে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের টানাপোড়েন যে এখনও কাটেনি, তা স্পষ্ট। 
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)