• স্বাক্ষর বিতর্কে এবার অভিষেকের দুয়ারে সিআইডি
    বর্তমান | ৩১ মে ২০২৬
  • কলকাতা, ৩০ মে: তৃণমূলের পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচন প্রক্রিয়ার ‘স্বাক্ষর বিতর্কে’র তদন্তে এবার ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে হাজির হল সিআইডি। আজ, শনিবার দুপুর একটার পরে হরিশ মুখার্জি রোডের ‘শান্তিনিকেতনে’ হাজির হন তদন্তকারী আধিকারিকরা। সঙ্গে ছিল হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ। যদিও এখনো অভিষেকের সেই বাড়ির অন্দরে প্রবেশের অনুমতি পাননি তদন্তকারীরা।

    জানা গিয়েছে, সে সময় বাড়িতে ছিলেন না তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। সেকথা তদন্তকারীদের জানিয়ে দেন অভিষেকের বাড়ির এক কর্মী। সিআইডির সদস্যরা এখনো অপেক্ষা করছেন বলে জানা গিয়েছে। সিআইডির দল যখন ‘শান্তিনিকেতনে’ হাজির হয় তখন কুণাল ঘোষের বাড়িতে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বেলেঘাটায় নিহত দলীয় কর্মী বিশ্বজিৎ পট্টনায়কের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। অভিষেক বেরিয়ে যাওয়ার পর এখন কুণাল ঘোষের বাড়িতে ঢুকেছে সিআইডি।

    ঘটনাচক্রে আজ বিকেলে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি আছে অভিষেকের। বিকাল সাড়ে তিনটের সময় সোনারপুরে যাওয়ার কথা তাঁর। ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় সোনারপুরের বাসিন্দা সঞ্জু কর্মকার নামে তৃণমূলের এক কর্মী খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ। তাঁর বাড়িতেই যাওয়ার কথা অভিষেকের। রওনা হওয়ার কিছুক্ষণ আগেই তার বাড়িতে সিআইডি টিম পৌঁছে গেল। 

    বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে নির্বাচনের প্রস্তাব ঘিরেই এই তদন্তের সূত্রপাত। প্রথমে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় একটি চিঠি পাঠালেও, পরিষদীয় নিয়ম অনুযায়ী সেই চিঠির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিধানসভা সচিবালয়। পরে দলের বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাব বিধায়কদের স্বাক্ষর-সহ জমা দেওয়া হয়। অভিযোগ, ওই প্রস্তাবে থাকা কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষরের সঙ্গে বিধানসভার নথিভুক্ত স্বাক্ষরের মিল পাওয়া যায়নি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই হেস্টিংস থানায় অভিযোগ দায়ের হয় এবং তদন্তভার নেয় সিআইডি। এই মামলায় বিএনএস-এর ৩৩৮ ধারা (নথি জাল) যুক্ত করেছে সিআইডি। ব্যাংক শাল আদালতে এই ধারা যুক্ত করার জন্য আবেদন জানানো হয়। আদালত মঞ্জুর করে। বিএনএস ৩৩৮ ধারায় সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সংস্থান আছে।
  • Link to this news (বর্তমান)