হাসপাতালে নজরদারিতে চালু হচ্ছে কন্ট্রোল রুম, স্বাস্থ্যের হাল ফেরাতে একগুচ্ছ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
বর্তমান | ৩১ মে ২০২৬
কলকাতা, ৩০ মে: পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, কর্মীর অভাব। অকেজো যন্ত্র। সঠিক সময়ে আসেন না অনেক ডাক্তারবাবু। এমন অভিযোগও নতুন নয়। সেইসঙ্গে দালালদের দৌরাত্ম। বহুবিধ সমস্যায় জর্জরিত বাংলার সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। সেইসঙ্গে আছে জেলা থেকে কলকাতার হাসপাতাল ‘রেফার রোগ’! স্বাস্থ্যের হাল ফেরাতে কড়া নজরদারি চালু হচ্ছে সরকারি হাসপাতালগুলিতে। সদ্য অনুষ্ঠিত বিধানসভা ভোটের ‘মডেল’ অনুসরণ করে চালু হতে চলেছে কন্ট্রোল রুম। শনিবার বিধাননগরে এক অনুষ্ঠানে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
রাজ্যে চালু হল বিনামূল্যে সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারের টিকাকরণ কর্মসূচি। এদিন বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে তারই উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এই নজরদারি কেন্দ্র হবে কলকাতার স্বাস্থ্য ভবনে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপাতত জেলা হাসপাতাল এবং মেডিক্যাল কলেজগুলিকে এর সঙ্গে যুক্ত করা হবে। হাসপাতালে দালাল চক্র আছে কি না, ডাক্তারবাবুরা আছেন কি না, হাসপাতালে কুকুর-বেড়াল ঘুরে বেড়াচ্ছে কি না, তা কন্ট্রোল রুমে বসেই সরাসরি দেখা যাবে। এজন্য পেশাদার লোকজন রাখা হচ্ছে।’ কোনো অভিযোগ থাকলে সাধারণ মানুষ সরাসরি কন্ট্রোল রুমে জানাতে পারবে। গাফিলতি চোখে পড়লে সরকার বরদাস্ত করবে না বলেও এদিন সতর্ক করেছেন তিনি।
এসএসকেএম হাসপাতালে আরো ১০০টি নতুন শয্যা যুক্ত হল। এদিন তারও উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেইসঙ্গে মনে করিয়ে দেন বেসরকারি হাসপাতালগুলির কর্তব্য। শুভেন্দু জানান, বহু বেসরকারি হাসপাতাল মাত্র ১ টাকায় সরকারের থেকে জমি পেয়েছে। তারা ১৫ শতাংশ শয্যা গরিব মানুষদের জন্য বরাদ্দ করতে বাধ্য। এমনকী সরকারি হাসপাতাল থেকে রেফার করা রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি নিতে হবে এবং তাদের নিখরচায় পরিষেবা দিতে হবে।