CBSE-র অন-স্ক্রিন মার্কিং পদ্ধতি বিতর্কে ঘি ঢাললেন ঝাড়খণ্ডের তরুণ ব্লগার সার্থক সিদ্ধান্ত। তাঁর দাবি, একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে কাজ পাইয়ে দিতেই টেন্ডারের নিয়ম শিথিল করা হয়েছিল। সরাসরি CBSE-র দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তিনি। সার্থকের ব্লগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তাঁর প্রশ্নগুলি তুলে ধরে কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করছেন রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিওয়ালরা।
২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি অন-স্ক্রিন মার্কিং চালু করেছিল CBSE। এটা মূলত ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থা। পরীক্ষক নিজে হাতে খাতা দেখেন না। বদলে উত্তরপত্র স্ক্যান করে তা নির্দিষ্ট সফটওয়্যারে আপলোড করা হয়। সেখানে নম্বর দেন পরীক্ষক। এই ব্যবস্থা চালানোর জন্য টেন্ডার ডেকেছিল CBSE। সার্থকের অভিযোগ, টেন্ডার পক্রিয়ায় ইচ্ছাকৃত ভাবে বেশ কিছু পরিবর্তন করা হয়। তার ফলে বিশেষ সুবিধা পেয়ে যায় হায়দরাবাদের একটি সংস্থা।
সার্থক নিজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। এ বছর পরীক্ষা দিয়েছেন। ১৭ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর মতো তাঁর উত্তরপত্র ডিজিটালি মূল্যায়ন করা হবে। এই খবরেই উদ্বিগ্ন সার্থক গোটা বিষয়টা খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। তখনই তাঁর হাতে আসে টেন্ডারের কাগজপত্র। সার্থকের অভিযোগ, তিনটি পর্যায়ে ধাপে ধাপে যোগ্যতার মানদণ্ড কমানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, আগের টেন্ডারে ‘খারাপ পারফরম্যান্স’ সংক্রান্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল, যা পরে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়।
শুধু তাই নয়, যে সংস্থাটি কাজের বরাত পেয়েছে, সেটি আগে ব্ল্যাকলিস্টেড ছিল বলেও দাবি করেছেন সার্থক। তাঁর অভিযোগ, তেলেঙ্গনা বোর্ডের পরীক্ষায় ওই সংস্থার কাজে প্রায় ৩৮ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়ে গিয়েছে। প্রশ্ন তুলেছেন, ‘সব জেনেশুনেও কেন তাদের জন্য নিয়ম শিথিল করা হলো?’ এছাড়াও, সফটওয়্যার সার্টিফিকেশন এবং উত্তরপত্র স্ক্যানিং সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত মানদণ্ডেও পরিবর্তন আনা হয়েছিল বলে তাঁর অভিযোগ।
সার্থকের ব্লগ প্রকাশ্যে আসতেই সরব হয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। পুরো ঘটনার স্বাধীন বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি তুলেছেন তিনি। সার্থকের ব্লগ পড়ার জন্য যুবসমাজকে আহ্বান জানিয়েছেন আপ সুপ্রিমো আরবিন্দ কেজরিওয়ালও। তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে CBSE। তাদের দাবি, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কিছু সমস্যা ছিল, তার সমাধানের জন্যই নিয়ম পরিবর্তন করা হয়। কোনও সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য নয়।
বিতর্ক শুরু হতে আসরে নেমেছে কেন্দ্রীয় সরকারও। বিরোধীদের প্রশ্নবাণের সামনে তদন্তের আশ্বাস দিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেছেন, ‘কোনও অনিয়ম, গাফিলতি বা ইচ্ছাকৃত ভুল প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড়া হবে না’।