সরকারের চাপে চিকিৎসা হল না হাসপাতালে, অভিষেককে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বাড়িতে: মমতা
eTV Bharat | ৩১ মে ২০২৬
কলকাতা, 30 মে: প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাতেই হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে । সরকারের চাপে চিকিৎসা হল না হাসপাতালে, অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ।
রাত 11টা নাগাদ হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকের মমতা বলেন, "রাজ্যে বিজেপি সরকারের আচরণে আমি খুবই স্তম্ভিত। এক মাসও হয়নি ওরা ক্ষমতায় এসেছে। পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে সব হাসপাতাল এবং নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে হুমকি দিচ্ছে, যাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভর্তি না-নেওয়া হয়।"
তিনি আরও বলেন, "সরকারের চাপে অভিষককে হাসপাতালে ভর্তি করানো গেল না । আগে বাইপাশের ধারে আরও এক বেসরকারি হাসপাতাল চিকিৎসা করানো যায়নি । পরে আমরা ওকে এখানে (মিন্টো পার্কের এক বেসরকারি হাসপাতালে) নিয়ে আসি । কিন্তু কলকাতা পুলিশের ডিসি সাউথ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে লাগাতার ফোন করেছিল । চাপের কাছে নতিস্বীকার করে চিকিৎসকরা ওকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় । আমি দেখেছি, ওর গায়ে বেশ কিছু চোট রয়েছে । স্থানীয় ছেলেরা না-থাকলে ওর মাথায় হেলমেট নি-দিয়ে ও আজ মরেই যেত । এখানে ওকে আইটিইউ-তে নিয়ে বিভিন্ন টেস্ট করা হয় । আগামিকাল থেকে আমাদের কর্মীরা রাস্তা নেমে এর প্রতিবাদ জানাবে । 2 তারিখ থেকে আমিও রাস্তায় নামব । সারা ভারতে এই অরাজকতা নেই । রাহুল গান্ধি আমার ফোন করেছিল। ও বলেছে, প্রয়োজনে হায়দরাবাদে বা অন্য কোথাও নিয়ে চিকিৎসা করানো যেতে পারে ।"
সোনারপুর থেকে সোজা বাইপাস সংলগ্ন বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি ৷ কিছুক্ষণ পরই সেখানে এসে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আর হাসপাতালে পৌঁছে অভিষেককে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান তিনি ৷ হাসপাতাল থেকে বেরনোর সময় মমতা বলেন, "এখানে চিকিৎসা হচ্ছে না ৷ অভিষেক বলেছে এখানে কোনও চিকিৎসা করা হচ্ছে না ৷ আমরা শিফট করছি ৷"
পরে মিন্টো পার্কের মিন্টো পার্কের কাছে এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় । তাঁকে স্ট্রেচারে করে ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ সেখানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়৷ তিনি জানান, অভিষেকের একাধিক জায়গায় চোট রয়েছে ৷ তাঁর গা বমি ভাবও রয়েছে ৷
অভিষেকের কাঁধে কিছু দাগ রয়েছে কিন্তু ভর্তি করার কিছু নেই । মিন্টো পার্কের কাছে হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষার নিরীক্ষার পর এমনটাই সূত্র মারফত খবর। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভর্তি করার দরকার নেই। কারণ গুরুতর কোন আঘাত লাগেনি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের । সামান্য কিছু ওষুধ দিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হবে। বাইপাস ধারের হাসপাতালের মতোই মিন্টো পার্কের হাসপাতাল একই বক্তব্য।
এদিন সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় গেলে জনরোষ আছড়ে পড়ে ৷ তাঁকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ডিম, ইট, পাথর, জুতো ৷ বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর ভিড়ে চরম হেনস্তার শিকার হতে হয় অভিষেককে ৷ সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে আটকে থাকার পর সেখান থেকে কলকাতায় ফিরি তিনি ইএম বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালের জরুরী বিভাগে যান। তাঁর পৌঁছনোর কিছুক্ষণ পরই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেখানে উপস্থিত হন। সেখানেই হাসপাতালের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "এখানে চিকিৎসা হচ্ছে না। সেই জন্য আমরা ওঁকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাচ্ছি। উপর থেকে এখানে বলে দেওয়া হয়েছে৷ সেই জন্য এখানে চিকিৎসা হচ্ছে না।" এরপরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান মমতা ৷
জানা গিয়েছে, এখান থেকে বেলভিউ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে অভিষেককে ৷ এদিন বাইপাসের ধারের হাসপাতালে পৌঁছে যান তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গাড়ি থেকে নেমে হাসপাতালের ভিতরে প্রবেশ করে যান তিনি। মমতার সঙ্গে ছিলেন অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শোভন চট্টোপাধ্যায়। বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তীও গিয়েছেন হাসপাতালে। এই হাসপাতালেই জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছিল অভিষেককে।
মমতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাইপাসের ধারের ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁদের বক্তব্য, যাঁরা অভিযোগ করছেন, তাঁরাই এই বিষয়ে সঠিকটা বলতে পারবেন। অন্যদিকে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে হুইল চেয়ারে করে বার করা হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর গায়ে তখন হাসপাতালেরই পোশাক ছিল ৷ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের বাইরেই সাংসদের গাড়ি অপেক্ষা করছিল। সেই গাড়িতে তোলা হয় তাঁকে। হুইল চেয়ারে করেই গাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। মমতার পাশাপাশি তৃণমূলের অন্য নেতারাও হাসপাতালে পৌঁছে গিয়েছেন।
রাত আটটার কিছুক্ষণ পরে বেলভিউ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেখানে তাঁর বেশ কিছু শারীরিক পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে খবর। শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেন, "বিভিন্ন জায়গায় ইনজুরি স্পট দেখলাম। জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে ৷ যে কোনও সময় যে কোনও ঘটনা ঘটতে পারত। মাথাতেও চোট আছে।"