• আজ ফাইনাল, গুজরাত ও ট্রফির মাঝে দাঁড়িয়ে কোহলি
    বর্তমান | ৩১ মে ২০২৬
  • আমেদাবাদ: মোতেরায় শ্রেষ্ঠত্বের টক্কর! বেঙ্গালুরু বনাম গুজরাতের। ‘কিং’ কোহলির সঙ্গে ‘প্রিন্স’ শুভমান গিলেরও! রবিবার সবরমতীর পাড়ে কোটিপতি লিগের মেগা ফাইনালে টাইটান্সদের সামনে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের মহাপরীক্ষা। কাগজ-কলমে ফেভারিট গতবারের চ্যাম্পিয়নরাই। আরসিবি খেলছেও দাপটে। ম্যারাথন লিগে এক নম্বরে থাকার পর প্রথম কোয়ালিফায়ারে কার্যত দুরমুশ করেছে গুজরাতকে। মারাত্মক ব্যাটিং গভীরতার সঙ্গে বোলিং বৈচিত্র— রজত পাটীদারের দলের সামনে টানা দু’বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি। কোহলির উপস্থিতি আবার ক্রিকেট রোম্যান্টিকের কাছে চৌম্বকীয় আকর্ষণ। ফের তাঁকে কাপজয়ী দেখতে চাওয়ার চাহিদাও অন্তহীন। গুজরাত ও ট্রফির মধ্যে কার্যত তিনিই দাঁড়িয়ে! 

    এবারের ভিকে অনেক দিক থেকেই ব্যতিক্রমী। অতীতে এই ফরম্যাটে ‘অ্যাঙ্কর’ হিসাবে দলকে টানতেই আগ্রহী দেখাত। একটা দিক শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতেন তিনি। এবার কিন্তু ‘পাওয়ার প্লে’ শুরু করছেন চার-ছক্কা মেরে। ফিল্ডিংয়ে বিধিনিষেধ উঠে গেলেও শটের ফুলঝুরি থামছে না। মারব না হলে আউট হব— এমন প্রতিজ্ঞাই ঠিকরে পড়ছে বডি ল্যাঙ্গুয়েজে। এমন ধামাকাদার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ কোহলি অদেখাই ছিলেন এতদিন। মিডল ওভারে স্পিনের বিরুদ্ধে দুর্বলতাও উধাও। চড়ুইভাতির মেজাজে বোলারদের বেপরোয়া শাসনে ব্যস্ত। বড়দা সুলভ গাম্ভীর্য ভ্যানিশ, খোলা মনে উপভোগ করছেন প্রতিটা মুহূর্ত। 

    শুভমানরা অবশ্য রীতিমতো ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন। লিগে দু’নম্বরে থাকার পর শুক্রবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে জয় এসেছে অনায়াসে। গিলের রাজকীয় শতরানে ম্লান বৈভব সূর্যবংশীর দায়িত্বশীল ইনিংস। সাই সুদর্শনের সঙ্গে ক্যাপ্টেনের ওপেনিং জুটি টাইটান্সদের বড়ো ভরসা। চলতি প্রতিযোগিতায় দু’জনেরই সাতশো প্লাস রান। সেটাও দেড়শোর বেশি স্ট্রাইক রেটে! তিন নম্বরে নামা জস বাটলারও বড়ো আসরের ঘোড়া। তবে ওয়াশিংটন সুন্দর, নিশান্ত সিন্ধু, রাহুল তেওয়াটিয়া, জেসন হোল্ডারদের নিয়ে গড়া লোয়ার মিডল অর্ডার অতটা ওজনদার নয়। 

    ঘরের মাঠে খেলতে পারা অবশ্য অবধারিতভাবেই টাইটান্সদের সুবিধা। এবারের আসরে মোতেরায় ৭টার মধ্যে ৫টা ম্যাচে জয়ী তারা। সেই আত্মবিশ্বাস নিশ্চিতভাবেই সঙ্গী তাদের। তার উপর বোলিং আক্রমণ রীতিমতো তারকাখচিত। কাগিসো রাবাডা, মহম্মদ সিরাজ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা, হোল্ডারের পেস আক্রমণের সঙ্গে রশিদের লেগস্পিন। প্রয়োজনে অফ স্পিন করবেন সুন্দর। তবে মাত্র একদিনের ব্যবধানে দুটো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ সহজ নয়। শনিবার চণ্ডীগড় থেকে আমেদাবাদের উড়ানও ধরতে হয়েছে গিলদের। কোহলিরা কিন্তু দিন কয়েকের বিশ্রামে তরতাজা! 

    লাখখানেক দর্শকাসনের স্টেডিয়ামে জমবে রাবাডা (২৮) বনাম ভুবনেশ্বর কুমারের (২৬) পার্পল ক্যাপের লড়াইও। বেঙ্গালুরুর বোলিংয়ে ভুবি ছাড়াও উইকেটের মধ্যে আছেন জস হ্যাজলউড, রসিখ সালাম, ক্রুণাল পান্ডিয়ারা। প্রথম কোয়ালিফায়ারে গুজরাতের বিরুদ্ধেই ৩ উইকেট নেওয়া জেকব ডাফি তীক্ষ্ণতা বাড়াবেন পেস আক্রমণে। উলটো শিবিরের হোল্ডারের মতো ক্রুণালও অলরাউন্ডার হিসেবে নির্ভরযোগ্য। পাশাপাশি, লাল-সোনালি শিবিরের ব্যাটিং গভীরতা দুর্দান্ত। মঙ্গলবার ক্যাপ্টেন রজত পাটীদারের বিধ্বংসী ইনিংস তফাত গড়ে দেয়। দেবদত্ত পাদিক্কাল, টিম ডেভিড, জিতেশ শর্মা, ক্রুণালরা চাপের মুখেও ব্যাট হাতে সফল। আর বিরাট তো আছেনই!

    এবারের ফাইনালের তাৎপর্য এখানেই আলাদা। যুবরাজ গিলের সঙ্গে বিরাট রাজার কাপজয়ের দ্বৈরথ রোজ রোজ হয় নাকি! 
  • Link to this news (বর্তমান)