সিবিএসই-নিটের পর বিভ্রাট কলেজে ভরতির পরীক্ষাতেও! কোণঠাসা কেন্দ্র
বর্তমান | ৩১ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আবারও এক সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষায় নাজেহাল হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী। নিট-ইউজি, সিবিএসই দ্বাদশের রেজাল্ট, এসএসসি কনস্টেবল নিয়োগের পর শনিবার বিভ্রাটের শিকার কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অধীনস্থ কলেজে ভরতির পরীক্ষা বা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি এন্ট্রান্স টেস্ট (সিইউইটি)। কম্পিউটার ভিত্তিক এই পরীক্ষার ঠিক আগেই সার্ভার ডাউন হয়ে যায়। সেটাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে। দিল্লি থেকে বারাণসী, আম্বালা থেকে নয়ডা— বহু পরীক্ষাকেন্দ্রেই ছাত্রছাত্রীদের কখনো বলা হল চলে যেতে, কখনো বলা হল অপেক্ষা করতে। ঘটনাচক্রে এবারও অভিযোগের নিশানায় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ), যা সরাসরি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের অধীনে। অর্থাৎ ফের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের মন্ত্রকের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠল। কোনো সমস্যা ও বিঘ্ন ছাড়া লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্নের পরীক্ষা আয়োজন করতেই পারছে না মোদি সরকার। এই ইস্যুতে বিরোধীদের আক্রমণের মুখে কেন্দ্রকে রীতিমতো দিশাহারা দেখাচ্ছে। কোনো শরিককেও পাশে পাচ্ছে না বিজেপি। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী তোপ দেগেছেন, ‘বিশ্বগুরু দেশের উচ্চশিক্ষার প্রবেশিকা পরীক্ষাগুলি পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে পারেন না? এক কোটি ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি!’ আম আদমি পার্টি (আপ) সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল তো রীতিমতো বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেছেন। বলেছেন, ‘এই জন্যই তো একজন শিক্ষিত প্রধানমন্ত্রী দরকার দেশে। আমি আইআইটি পাশ করেছি। আমি জানি শিক্ষার মূল্য কতটা। আর এই প্রধানমন্ত্রী ১২ বছরে শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছেন।’
বছরের পর বছর ধরে ডাক্তারি কোর্সে সর্বভারতীয় প্রবেশিকা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। এবার পরীক্ষা হয়ে যাওয়ার পর তা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে এনটিএ। প্রশ্ন ফাঁসে বিরাট চক্রের সন্ধান পেয়েছে সিবিআই। কিন্তু পরীক্ষা বিভ্রাট সেখানেই থামেনি। তারপরই সিবিএসই পরীক্ষার উত্তরপত্রের কেলেঙ্কারি নিয়ে উত্তাল দেশ। কয়েকদিন আগেই হয়েছে স্টাফ সিলেকশন কমিশন (এসএসসি) পরীক্ষা দুর্নীতি। তার জেরে বাতিল করতে হয়েছে কনস্টেবল নিয়োগের পরীক্ষা। দেশের ছাত্রছাত্রী, কর্মপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে মোদি সরকার ছেলেখেলা করছে— এই অভিযোগে তামাম বিরোধীরা সরব। এমনকী দেশের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে অনলাইনে তৈরি হয়ে গিয়েছে এক জেন জি আন্দোলন। ককরোচ জনতা পার্টি, যাদের অনুগামীর সংখ্যা আড়াই কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে ইনস্টাগ্রামে। এরকম এক সময়ে আবার এক কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় বড়োসড়ো ধাক্কা।
দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করার পর কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজগুলিতে ভরতির পরীক্ষাই হল এই সিইউইটি। পছন্দের কলেজে ভরতি হওয়া নির্ভর করে এটির উপরেই। স্বভাবতই এ নিয়ে দেশের ছাত্রছাত্রী-অভিভাবকদের টেনশনে প্রায় বিনিদ্র রাত্রি যাপন করতে হয়। কিন্তু সার্ভার বিভ্রাটে সকাল ও বিকেল দুই শিফটের পরীক্ষাই স্তব্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। এনটিএ অবশ্য নিজেদের মুখরক্ষায় এদিন সব দোষ চাপিয়েছে বেসরকারি সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের উপর। তাদের সঙ্গেই এই অনলাইন পরীক্ষা পরিচালনার চুক্তি করেছিল এনটিএ। টিসিএসের পক্ষ থেকেও বিবৃতি দিয়ে নিজেদের দায় স্বীকার করা হয়েছে। বলা হয়েছে, প্রযুক্তিগত সমস্যা হয়েছে। সেই কারণে যে পরীক্ষা হওয়ার কথা সকাল ৯টায়, সেটি বেলা সাড়ে ১১টাতেও শুরু হয়নি। উভয় শিফটের পরীক্ষা পিছিয়ে দিতে হয়। রাহুল গান্ধী এদিন বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আজ যে প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছেন, তারা কিন্তু আপনাকেই এজন্য দায়ী করবে।’ কেজরিওয়ালের কটাক্ষ, ‘পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এয়ারফোর্স বহন করে নিয়ে যাবে। একটা সরকার দুর্নীতি রোধে কতটা ব্যর্থ হলে এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে!’