• জেলা হাসপাতালের পাঁচিল টপকে পালিয়ে গেল আসামি, পিছু নিয়েও নাগাল পেল না পুলিশ, তল্লাশি শুরু
    বর্তমান | ৩১ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বালুরঘাট: পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে হাসপাতালের পাঁচিল টপকে পালিয়ে গেল আসামী। ফিল্মি কায়দায় আসামির এই পলায়ণে শোরগোল পড়ে গিয়েছে বালুরঘাটে। তন্নতন্ন করে খুঁজেও পুলিশ আর আসামিকে ধরতে পারেনি।

    ধর্ষণের মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে শনিবার চিকিৎসার জন্য আনা হয় বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে। শৌচালয়ে যাওয়ার নাম করে হাসপাতালের প্রাচীরের ধারে গিয়েছিল আসামি। কাছেই দাঁড়িয়ে ছিল পুলিশ। হঠাৎ পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পাঁচিল টপকে পালিয়ে গেল যায় সে। একেবারে ফিল্মি কায়দায়। আসামিকে ধরতে পিছনে ছুটতে থাকে পুলিশ। কখনও রাস্তা দিয়ে আবার কখনও জঙ্গল দিয়ে ছুটতে থাকে অপরাধী। পিছনে ধাওয়া করে পুলিশ। অবশেষে একটি খাড়ির মধ্যে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায় সে। আর আসামির নাগাল পায়নি পুলিশ।

    খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বালুরঘাট থানার আইসি সুমন্ত বিশ্বাস সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। আসামিকে ধরতে গোটা বালুরঘাটে চিরুনি তল্লাশি চলছে। কিন্তু বিকেল পর্যন্ত পলাতক আসামিকে ধরতে পারেনি পুলিশ। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, এক আসামি পালিয়ে গিয়েছে। তাকে ধরার চেষ্টা চলছে। 

    জানা গিয়েছে, পলাতক আসামির নাম লিটন সরকার। তার বাড়ি তপন থানার উত্তর শরিফাবাদে। ২০১২ সালে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা হয়েছিল। তার নামে আরও একটি পকসো মামলা যুক্ত হয়েছে। ২০১২ সাল থেকে অভিযুক্ত বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে রয়েছে। সম্প্রতি তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তারপর থেকে বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারেই ছিল সে।

    বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার থেকে মাঝেমধ্যে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে আসামিদের এনে চিকিৎসা করানো হয়। লিটনও সম্প্রতি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিল। শনিবার কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের পুলিশের ভ্যানে তাকে হাসপাতালের সুপার স্পেশালিটি বিল্ডিংয়ে আনা হয়। বিল্ডিংয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল পুলিশের ভ্যান। ভ্যান থেকে নেমে প্রাচীরের ধারে শৌচকর্ম করতে গিয়েছিল আসামি। সেখান থেকেই সে পালিয়ে যায়। তবে এই ঘটনায় জেল পুলিশের ঢিলেঢালা নিরাপত্তা সামনে এসেছে। 

    স্থানীয় এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, পুলিশের অসতর্কতা এবং ঢিলেঢালা নিরাপত্তার জন্য আসামি পালিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী নান্টু মার্ডি বলেন, আমার চোখের সামনে দিয়ে ওই আসামি পালাচ্ছিল। তার পিছনে পুলিশ দৌড়চ্ছে। পুলিশ চোর চোর বা অন্য কিছু বলে চিৎকার করলে স্থানীয়রা ধরে ফেলত। পুলিশ চুপচাপ দৌড়চ্ছিল বলে সহজে কেউ বিষয়টি বুঝতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানলাম। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী অভিজিৎ মণ্ডল বলেন, পুলিশ আরেকটু তৎপর হলেই আসামিকে ধরতে পারত। 

    অন্যদিকে, জেল পুলিশের তরফে বিষয়টি বালুরঘাট থানায় জানানো হয়েছে। বালুরঘাট থানার পুলিশ জানিয়েছে, ওই আসামিকে খুঁজতে বিভিন্ন জায়গায় নজরদারি এবং তল্লাশি শুরু হয়েছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)