জাল সার্টিফিকেট দিয়ে ল’ কলেজে চাকরি, সহকারী গ্রন্থাগারিককে শোকজ বালুরঘাটে
বর্তমান | ৩১ মে ২০২৬
সংবাদদাতা, বালুরঘাট: জাল সার্টিফিকেট দেখিয়ে বালুরঘাট ল’ কলেজে চাকরিতে যোগ দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর তৃণমূল নেত্রীকে শোকজ করলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক। সাতদিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি সহ জবাব দিতে বলা হয়েছে।
কলেজ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত মহিলার নাম শাশ্বতী দাস। তিনি বালুরঘাট পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা হরিরামপুরের বর্তমান বিধায়ক বিপ্লব মিত্রের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। গত পুরসভা নির্বাচনে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে লড়াই করলেও জিততে পারেননি। বালুরঘাট মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের কমিটিতেও রাখা হয়েছিল তাঁকে।
২০২৪ সালে ওই কলেজে সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে অস্থায়ী কর্মী হিসেবে যোগ দেন শাশ্বতী। এরপর অভিযোগ ওঠে, তিনি মেঘালয়ের উইলিয়াম কেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লাইব্রেরি সায়েন্স নিয়ে পাশ করার সার্টিফিকেট জমা দিয়েছিলেন। এরপর গঙ্গারামপুরের এক বাসিন্দা বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন কলেজে। আরটিআই করেন একজন আইনজীবীও।
কেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আরটিওর জবাবে জানান, শাশ্বতী দাস নামে কাউকে ওই নম্বরের সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়নি। একই সঙ্গে জানানো হয়, সেটি জাল। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় চিঠি দিয়ে জানায় ল’ কলেজ কর্তৃপক্ষকেও।
এরপরেই ল’ কলেজ কর্তৃপক্ষ শাশ্বতীকে শোকজ করেছে। ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক সন্তোষ কুমার তিওয়ারি বলেন, ‘আমি বাইরে আছি। এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই।’ তবে শাশ্বতীকে ফোন ও মেসেজ করলেও উত্তর মেলেনি।
বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বাপি সরকারের অভিযোগ, তৃণমূলের আমলে তাদের নেতা ও কর্মীরা জাল নথি দেখিয়ে চাকরি পেয়েছেন। ওই মহিলা বিপ্লব মিত্রের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। আশাকরি, কলেজ কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবে।
ল’ কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী বিপ্লব। তিনি বলেন, এখন সবাই কি আমার ঘনিষ্ঠ নাকি? আমি নিয়োগ করার কেউ নই। নিয়োগ করে সিলেকশন কমিটি। কেউ জাল নথি দিয়ে কাজ পেয়ে থাকলে আইনি পদক্ষেপ নিক কলেজ কর্তৃপক্ষ।