সংবাদদাতা, খড়্গপুর: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা কারা পাবেন, তা নিয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে শুরু হয়েছে বিতর্ক। শনিবার সকালে খড়্গপুর শহরের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের তালঝুলি এলাকায় চা-চক্রে তিনি যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে বলেন, ‘অনেকেই আমাকে ফোন করে বলেছেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকায় স্নো-পাউডার মেখে ঘুরে বেড়াচ্ছেন মহিলারা। আমি তাঁদের বলেছি, এই টাকা তাঁদের জন্য নয়। স্নো-পাউডার মেখে ঘুরে বেড়ানোর জন্য নয়। ফূর্তি-মোচ্ছব করার জন্য নয়। যেসব গরিব মহিলারা কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছেন, ছেলেমেয়েদের বড়ো করছেন, এটা তাঁদের জন্য। কোনো ডাক্তারের বউ, মাস্টারের বউরা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন না!’
এমনিতেই অন্নপূর্ণা যোজনার ১২ পাতার ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন মহিলারা। তার উপর কারা টাকা পাবেন, আর কারা পাবেন না তা নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে। এরমধ্যেই অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিজেপি সরকারের এক-একজন মন্ত্রীর এক একরকম বক্তব্য ঘিরে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এদিন দিলীপবাবু জানান, খড়্গপুর শহরের ৪৮হাজার মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেতেন। কিন্তু, শহরে ৪৮ হাজার পরিবারই নেই। এরপরই তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘ডাক্তারের বউ, মাস্টারের বউ সবাই পেয়ে যাচ্ছেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা। কেন পাবেন তাঁরা? পান খাওয়ার জন্য, বিউটি পার্লারে যাওয়ার জন্য?’ তিনি বলেন, এরপর থেকে আর সবাই এই টাকা পাবেন না। সেই জন্যই ১৩ পাতার ফর্ম দেওয়া হয়েছে।
এবিষয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আমরা দেখে নিতে চেয়েছি, পরিবারের কত টাকা ইনকাম, কত সম্পত্তি, ব্যাংকে কত টাকা আছে এসব। প্রকৃত গরিব মহিলাদের জন্যই এই যোজনা। বাকিরা কেন নেবেন? হাত পাতবেন কেন? সম্মানের সঙ্গে বাঁচুন।’