নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর ও সংবাদদাতা, ডোমকল: পুরুষ হয়েও নিয়েছেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা। শুধু তাই নয়, একাধিক মানুষের নথি ব্যবহার করে সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সামনে আসছে মুর্শিদাবাদ জেলাজুড়ে। রঘুনাথগঞ্জের তারিকুর রহমানের আটটি অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকত। অভিযোগ পেয়ে তারিকুরকে গ্রেপ্তার করেছে বহরমপুর থানার পুলিশ। তারিকুরের নিজের নামে তিনটি অ্যাকাউন্ট, তাঁর স্ত্রীর নামে তিনটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এখানেই শেষ নয়, তার এক নাবালক সহ দুই ছেলের নামে দু’টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। মোট আটটি অ্যাকাউন্টে নিয়ম করে টাকা ঢুকত।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গত বুধবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ প্রকাশ্যে এনে বহরমপুরের রাকিবুল ইসলামের নাম তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী রাকিবুলের নাম প্রকাশ্যে আনার পর তাকে ওইদিন রাতেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। জালিয়াতির শিকড় খুঁজতে পুলিশ একটি বিশেষ তদন্তকারী টিম (সিট) গঠন করে জোরকদমে তদন্ত শুরু করে। ধৃত রাকিবুলকে জেরা করে জানা যায় মোস্তাফিজুর রহমান নামে আরও এক ব্যক্তির নাম। তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানতে পারেন মোস্তাফিজুরের নামেও একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। মোস্তাফিজুরকেই এই চক্রের মাথা বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
শনিবার দুপুরে একই জালিয়াতির অভিযোগে ডোমকল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির স্বামী শরিফুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ডোমকলের বৃন্দাবনপুর এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ডোমকল পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের সভাপতি শাহানা বিশ্বাসের স্বামী। অভিযোগ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই প্রকল্পের ভাতা নিয়েছেন। স্বামীর গ্রেপ্তারির প্রসঙ্গে ডোমকল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বলেন, আমিও বিষয়টি শুনেছি। কী কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানি না।