• চন্দননগর পুরসভার মেয়র ও ৩০ তৃণমূল কাউন্সিলারের ইস্তফা, কারণ নিয়ে গুঞ্জন
    বর্তমান | ৩১ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চন্দননগর পুরসভার মেয়র সহ তৃণমূলের সব কাউন্সিলার একযোগে পদত্যাগ করলেন। শুক্রবার গভীর রাতে মেয়র ও কাউন্সিলাররা ই মেল করে প্রশাসনের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।

    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, অফিস বন্ধ থাকায় এ সংক্রান্ত আইনি পদক্ষেপ করা যায়নি। সোমবার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হতে পারে। মেয়র সহ ৩০ কাউন্সিলারের একযোগে পদত্যাগ করায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে চন্দননগরে। ২০২৭ সালে ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হবে। তার ন’মাস আগে ক্ষমতাসীন বোর্ডের পতন ঘিরে রহস্য তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নাগরিক পরিষেবা নিয়েও উঠছে বড়োসড়ো প্রশ্ন।

    কেন পদত্যাগ? পুরসভার মেয়র এবং প্রবীণ তৃণমূল নেতা রাম চক্রবর্তী বলেন, ‘রাজ্যে পালাবদলের পর পুরনিগমের উপর অর্থনৈতিক অবরোধ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। নাগরিক পরিষেবা সহ নিগমের প্রশাসনিক কাজ চালানো কঠিন হওয়ার ইঙ্গিত মিলছিল। এই পরিস্থিতিতে পদ আঁকড়ে থেকে নাগরিকদের সঙ্গে অন্যায় আমরা করতে চাইনি। সে কারণেই গণ-পদত্যাগ।’ যদিও তৃণমূলের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করতে ছাড়েনি বিজেপি। দলের নবনির্বাচিত বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ বলেন, ‘হঠাৎ ওঁদের বিবেক জাগ্রত হয়েছে। আসলে অনিয়মের বিরুদ্ধে বিজেপি সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ও নাগরিক ক্ষোভের ইঙ্গিত পেয়েই ওঁরা পাততাড়ি গুটিয়েছেন।’ বিজেপির পাশাপাশি সরব সিপিএমও। পুরসভার সিপিএম কাউন্সিলার প্রবীণ নেতা অশোক গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘সৎ সাহসের অভাব আছে তৃণমূল নেতৃত্বের। ২০১৮ সালে একবার অকালে বোর্ড ভেঙে পালিয়েছিল তৃণমূল। এবার আবার চন্দননগরের মানুষকে বিপাকে ফেলে নেতারা পালালেন।’

    অন্যদিকে মেয়র অর্থনৈতিক অবরোধের কথা বললেও অতিরিক্ত কিছু কারণ গণ-পদত্যাগের নেপথ্যে আছে বলে অনেকের ধারনা। তৃণমূলের অন্দরমহলের খবর, পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরসভার উপর চাপ তৈরি করা হচ্ছিল। সে বিষয়ে দলের রাজ্য নেতৃত্বকে জানানো হয়। তবে সেরকম কোনো সুরাহা মেলেনি। তারপরই আত্মসমর্পনের সিদ্ধান্ত নেন কাউন্সিলাররা। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন আর্থিক সঙ্কটের মধ্যেও পুরসভা চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। বিজেপি সরকারের থাকলে সেই সুযোগ মিলবে না, সেই বাস্তব পরিস্থিতিও কাউন্সিলারদের পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছে। তবে কার্যকারণ যাই হোক, কলকাতা লাগোয়া এলাকার এক পুরনিগমে অকালে পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জলঘোলা। 
  • Link to this news (বর্তমান)