• বিচার ব্যবস্থা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কুমন্তব্য, রাজ্যের কাছে জবাব চাইল হাইকোর্ট
    বর্তমান | ৩১ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজনীতি থেকে চলচ্চিত্র কিংবা ক্রীড়াজগৎ! সোশ্যাল মিডিয়ায় সব কিছুরই চুলচেরা বিশ্লেষণ চোখে পড়ে। তাহলে বিচারব্যবস্থাই বা বাদ যাবে কেন? হ্যাঁ, সম্প্রতি একাধিক ঘটনার প্রেক্ষিতে বিচার ব্যবস্থা নিয়েও সামাজিকমাধ্যমে কু-কথা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা সামনে এসেছে। বাদ যাননি বিচারকরাও। বিভিন্ন সময় বিচারক এবং বিচারব্যবস্থাকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া সেইসব আপত্তিকর, মিথ্যা ও আদালত অবমাননাকর পোস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজ্য পুলিশের কোনো এসওপি আছে কি না, তা জানতে চাইল কলকাতা হাইকোর্ট। এই সংক্রান্ত একটি মামলায় রাজ্য পুলিশের কাছে জবাব তলব করেছেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত।

    সম্প্রতি স্বামী প্রদীপ্তানন্দ ওরফে কার্তিক মহারাজের দায়ের করা এক আবেদনের শুনানিতে আদালতের নজরে আসে, বেশ কিছু ইউটিউব ভিডিয়োতে কলকাতা হাইকোর্টের বেঞ্চ ও বিচারপতিদের বিরুদ্ধে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে কটাক্ষ’ করা হয়েছে। শুনানি চলাকালীন বিচারপতি সেনগুপ্তের মন্তব্য, যেদিন এই বেঞ্চ বসেনি, সেদিনও এমন কিছু ইঙ্গিত করা হয়েছে যেন, বন্ধ দরজার আড়ালে কোনো বিরূপ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও, এই আদালতের বিচারপতিদের বিরুদ্ধে সাধারণভাবে মানহানিকর ও আদালত অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে। আরও কিছু ভিডিও ছিল, যা সত্যিই উদ্বেগজনক বলে মনে করেছে আদালত। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরনের ভিডিয়ো এবং মন্তব্য ঠেকাতে কী ব্যবস্থা রয়েছে, তা জানতে চায় আদালত। এই সব ক্ষেত্রে বিচারক এবং বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টের মোকাবিলায় কোনও স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) আছে কি না, তা জানতে চায় কলকাতা হাইকোর্ট।

    শুধু এই মামলা নয়, নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে আর জি কর সহ সাম্প্রতিক সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় রায়দানের পর বিচারক বা বিচারপতিদের নির্দেশ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক কটূক্তি, নেতিবাচক সমালোচনা নজরে এসেছে আদালতের। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে চার সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। জানতে চাওয়া হয়েছে, এইসব আপত্তিকর, মিথ্যা ও আদালত অবমাননাকর পোস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজ্য পুলিশের কোনো এসওপি আছে কি না? এই ধরনের কনটেন্ট সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরানোর কোনো ব্যবস্থা আছে কি না, তাও উল্লেখ করতে বলা হয়েছে রিপোর্টে। ২২ জুন মামলার পরবর্তী শুনানি।
  • Link to this news (বর্তমান)