• আক্রান্ত অভিষেক, সরব রাহুল-অখিলেশরা
    বর্তমান | ৩১ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছে বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। দেশের প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতারা কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন এবং তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি বিরোধী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’ বড়োসড়ো কোনো পদক্ষেপ করতে পারে বলেও রাজনৈতিক মহলের অনুমান। খুন হওয়া দলীয় কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে শনিবার বিকেলে সোনারপুরে যান লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এটা তাঁর পূর্বঘোষিত কর্মসূচি। কিন্তু নিহত দলীয় কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার সময় সোনারপুরে বিক্ষোভের মুখে পড়েন অভিষেক। অভিযোগ, তাঁকে মারধর করা হয়, ডিম ও জুতো ছোড়া হয়েছে। অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ ধরে অভিষেককে ঘিরে বিক্ষোভ চলে। কিন্তু এতক্ষণ ধরে ঘটনা ঘটলেও পুলিশ কর্মীদের ঘটনাস্থলে দেখতে পাওয়া যায়নি কেন সেই প্রশ্নটাই উঠেছে। অভিষেকের কর্মসূচি আগে থেকে জানানো ছিল তারপরেও তার জন্য যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেন করা হয়নি সেই প্রশ্নটাও তোলা হয়েছে তৃণমূলের পক্ষ থেকে। একদিকে অভিষেক সাংসদ। অন্যদিকে লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা এবং দেশের রাজনীতিতে অতি পরিচিত মুখ। ফলে তাঁর জন্য যথাযথ নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন রাজনৈতিক নেতারা। অভিষেকের অভিযোগ, আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। 

    অভিষেকের উপর হামলার ঘটনার ভিডিও তুলে ধরে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এখনকার শাসকরা খুনিতে পরিণত হল, ধিক্কার বিজেপি! এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা করে তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।  প্রতিবাদে সরব হয়েছেন সর্বভারতীয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। তিনি বলেছেন, রাজ্যে নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে সাংসদ  অভিষেকের উপর যে মর্মান্তিক হামলা হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা জানাই। একজন বিশিষ্ট বিরোধী নেতার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে পর্যাপ্ত পুলিশি সুরক্ষার অভাব বিজেপির প্রতিহিংসা ও নিপীড়নের রাজনীতির কথাই স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব জানান, তৃণমূল কংগ্রেসের একজন বিশিষ্ট নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার প্রমাণ করেছে যে, তারা বিদ্বেষপূর্ণ, নেতিবাচক ও হিংসাত্মক রাজনীতি করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারে না। দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, শক্তিশালী বিরোধী চায় না বিজেপি। অভিষেকের উপর আক্রমণের ঘটনা প্রমাণ করল, বিজেপি শাসিত বাংলার আইন-শৃঙ্খলা এখন কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে।  তেজস্বী যাদব জানান, বিজেপি সরকারের মদতে যেভাবে অভিষেকের উপর হামলা হল, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এছাড়াও অলকা লম্বা, রোহিত পাওয়ার সহ একঝাঁক সর্বভারতীয় নেতা-নেত্রী তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, হাজারো পুলিশের ঘেরাটোপে অভিষেকরা যেভাবে হিংসা ছড়াতেন, সেটা যেমন গণতন্ত্রে চলে না, আজকের ঘটনাও তেমনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, সোনারপুরে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আক্রমণের ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং আগামীদিনে তাঁর নিরাপত্তা বাড়ানোর পথ সুকৌশলে সুগম করা, পুরো বিষয়টি পরিকল্পিত বলেই কংগ্রেস মনে করে। সোনারপুরে যে ঘটনা ঘটেছে, তাতে দল কোনোভাবেই যুক্ত নয় বলে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেছেন, আমরা এই ধরনের ঘটনাকে সমর্থন করি না। তবে বিজেপি আছে বলে তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরা অক্ষত আছেন। বিজেপি নেতাকর্মীদের উপর এর আগে যেভাবে অত্যাচার হয়েছে, তা বাংলার মানুষ সবাই দেখেছেন। কিন্তু আমরা সংযত আছি। 
  • Link to this news (বর্তমান)