• একটি ব্যাকটেরিয়াই রুখে দিচ্ছে সুপারবাগ ও আর্সেনিকের দূষণ, গবেষণার নেপথ্যে ২ বাঙালি
    বর্তমান | ৩১ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সুপারবাগ বা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু ও ভাইরাস এবং আর্সেনিক দূষণ। ভারত তথা বাংলায় এই দু’টি দৈত্যাকায় সমস্যার একটাই ক্ষুদ্র সমাধান— ব্যাসিলাস সাবটিলিস ১৬৮।  দুই বাঙালি বিজ্ঞানীর আবিষ্কার আশা জোগাচ্ছে প্রকৃতির দেওয়া জোড়া শাপমুক্তিতে। মাটিতে থাকা এই নিরীহ ব্যাকটেরিয়া আগামী দিনে যে ব্যাপক ভূমিকা নিতে পারে, তারই আভাস মিলছে বিখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা এলসভিয়ারের জার্নাল অব হ্যাজার্ডাস মেটেরিয়ালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে। সেই গবেষণার নেপথ্যে রয়েছেন ইম্পিরিয়াল কলেজ অব লন্ডনের অর্ণব মজুমদার এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তড়িৎ রায়চৌধুরী।

    পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও উত্তরপ্রদেশ, বিহার, অসম সহ বহু রাজ্যের ভূগর্ভস্থ জলে আর্সেনিক দূষণ একটি বড় বিপদ। শুধু পানীয় জল নয়, চাষের জলেও আর্সেনিকের জোরালো উপস্থিতি রয়েছে। সেই জল দিয়েই হয় চাষাবাদ। ফলে সেই ফসলের মাধ্যমে বিষ ঢুকছে মানুষ এবং খামারের পশুপাখির দেহে। তারপর শুরু হয় একটি চক্র। এক দেহ থেকে অন্য দেহে প্রবেশ এবং প্রভূত ক্ষতিসাধন। শুধু তাই নয়, এসব অঞ্চলে দিনের পর দিন আর্সেনিকের প্রভাব থাকায় ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া নিজেদের টিকিয়ে রাখার জন্য ব্যাপকভাবে অভিযোজিত হতে শুরু করে। সেখানে কোনো ক্ষতিকর ভাইরাস বা জীবাণু থাকলে সেটিও তাণ্ডবলীলা চালাতে পারে। কারণ, আর্সেনিক রুখে দেওয়া সেই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সুপারবাগকে বাজার চলতি অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিভাইরাস বাগে আনতে পারে না।

    এখানেই আশা জোগাচ্ছেন দুই বিজ্ঞানী। তাঁরা গবেষণায় দেখেছেন, ব্যাসিলাস সাবটিলিস এক ধরনের বায়োফিল্প তৈরি করছে। এটি আসলে এক্সট্রাসেলুলার পলিমেরিক সাবস্ট্যান্সে (ইপিএস) তৈরি আঠালো জালের মতো পদার্থ। এগুলি ভূগর্ভস্থ জল থেকে ফসলে আর্সেনিকের অণু শোষণে বাধা দেয়। দেখা গিয়েছে, ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এগুলি ৮ থেকে ৯ গুণ বেশি আর্সেনিক ধারণ করতে পারে। ফলে ধানের শিকড় থেকে আর ধানগাছ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না এই বিষ। ফলে খাদ্যশৃঙ্খলে আর্সেনিকের প্রভাব অনেকটাই কমে যাচ্ছে। এখানেই থেমে থাকছে না সাবটিলিসের কাজ। এটি সাবল্যান্সিন নামে একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক সদৃশ পদার্থ তৈরি করছে, যা স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াসের মতো বিপজ্জনক, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়াকেও মেরে ফেলছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সরাসরি ধানখেতে প্রয়োগ করে বা সাবটিলিস দিয়ে ধানবীজ শোধন করলে ফসলে আর্সেনিক দূষণ এবং মাটির ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। 
  • Link to this news (বর্তমান)