• টাকা হাতানোর চেষ্টা, অন্নপূর্ণা যোজনার নামে প্রতারণার ফাঁদ
    এই সময় | ৩১ মে ২০২৬
  • এই সময়, শিলিগুড়ি: অন্নপূর্ণা যোজনার নামে প্রতারণা ঠেকাতে প্রচার শুরু করল শিলিগুড়ি পুলিশ। ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে প্রচারও শুরু করেছেন আধিকারিকরা। মানুষকে সচেতন করার এই কাজে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, ক্লাব, সামাজিক সংগঠনের সাহায্যও নিতে চাইছে পুলিশ। শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানার এক আধিকারিক বলেন,‘বহু পরিবারে সিনিয়র সিটিজেনরা এই ধরনের সাইবার প্রতারণা সম্পর্কে সচেতন নন। স্কুল–কলেজে পাঠরত জেন জি–রা মোবাইল, ইন্টারনেট অথবা সাইবার জগতের বিষয়ে অনেক বেশি জানে। সেই সব ছাত্রদের সচেতন করার মধ্য দিয়ে পরিবারের বড়দের বার্তা দেওয়ার কাজ চলবে। অন্যদিকে, বিভিন্ন সামাজিক সংস্থা ও সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে মানুষকে সচেতন করা হবে।’

    কিন্তু কেন হঠাৎ পুলিশের এই তৎপরতা? পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ধরনের প্রতারণা নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন সময় নানা ধরনের ছুতো ধরে প্রতারকরা মানুষকে ভয় এবং লোভ দেখিয়ে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়। ইদানিং অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিলআপের নামে মানুষকে প্রতারণার চেষ্টা শুরু করেছে অপরাধীরা। শিলিগুড়ি এবং সংলগ্ন এলাকায় বেশ কয়েকজনের সঙ্গে ইতিমধ্যেই যোগাযোগ করা হয়েছে।

    হাতিয়াডাঙ্গার বাসিন্দা প্রমীলা বর্মন বলেন, ‘ফোন করে একজন বিডিও অফিসের পরিচয় দিয়ে কিছু তথ্য চাইছিল। আমি বিষয়টি বুঝতে না পেরে মেয়েকে ফোন ধরিয়ে দিই। কলেজ পড়ুয়া মেয়ে বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই ব্যক্তিকে তিরস্কার শুরু করতেই কেটে দেওয়া হয় ফোন।’ একই রকমভাবে টিউমল পাড়ার প্রকাশ সরকারের মোবাইলে ফোন করে প্যান নম্বর এবং ব্যাঙ্ক ডিটেলস চাওয়া হয়। তবে কোনও তথ্যই জানাননি প্রকাশ। দুটি ক্ষেত্রেই অন্নপূর্ণা যোজনার নাম করে তথ্য যাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।

    এমন ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরে পুলিশ নাগরিকদের সচেতন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পালাবদল হতেই পুরোনো ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’–এর পরিবর্তে ৩ হাজার টাকার অন্নপূর্ণা যোজনার কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যে ১২ পাতার একটি ফর্ম প্রকাশ করা হয়েছে। সেই অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হয়েছে। ফলে দ্রুত এই ধরনের তথ্য দিয়ে যোজনার টাকা পাওয়ার চেষ্টা করছেন বহু মানুষ। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সাইবার প্রতারকরা মহিলাদের ব্যক্তিগত তথ্য জানতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা বলেন, ‘কোনও অবস্থাতেই ফোনের মাধ্যমে ব্যাঙ্ক ডিটেলস, প্যান নম্বর বা অন্য কোন ধরনের তথ্য কাউকে দেবেন না।’ সরকারি প্রতিনিধি ছাড়া কারও কাছে এই ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ না করতেও অনুরোধ করেছেন কমিশনার। এছাড়াও অচেনা নম্বর থেকে আসা লিঙ্ক খোলা কিংবা ফোনের মাধ্যমে কাউকে ওটিপি জানাতেও নিষেধ করেছে পুলিশ।

  • Link to this news (এই সময়)