বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার ২৬ দিন পরে, শনিবার প্রকাশ্য কর্মসূচিতে সোনারপুরে গিয়ে আক্রান্ত হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদকে মারধর ও হেনস্থার ঘটনায় অভিযুক্ত সন্দেহে চার জনকে গ্রেপ্তার করল সোনারপুর থানার পুলিশ। আটক করা হয়েছে আরও তিন জনকে বলে খবর। অভিযুক্তদের ভিডিয়ো ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে খবর। গ্রেপ্তারির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ধৃতদের রবিবারই বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে।
জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল দলের তরফে কোনও অভিযোগ দায়ের না হলেও স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে পুলিশ। এর পরেই অভিযুক্তদের খোঁজে তদন্ত শুরু হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ঘটনাস্থলের ভিডিয়ো খতিয়ে দেখে রাতভর তল্লাশি চালানো হয়। তার পরেই কয়েকজনকে আটক ও পরে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হামলা, মারধর, বেআইনি ভাবে জমায়েত, পথ আটকানো, গালিগালাজের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতেরা হলেন আকাশ গায়েন, কাজল, দেবাশিস এবং জয় সেনগুপ্ত।
প্রসঙ্গত, শনিবার ভোট পরবর্তী হিংসায় নিহত এক দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করার জন্য সোনারপুরে গিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সেখানে পৌঁছনোর আগে থেকেই নজরে এসেছিল ক্ষুব্ধ বেশ কিছু মহিলার জমায়েত। এর পরে এক তৃণমূল কর্মীর বাইকে চেপে অভিষেক সেখানে পৌঁছতেই তাঁকে ঘিরে ফেলেন বেশ কয়েকজন বলে অভিযোগ। আছড়ে পড়ে জনরোষ। তাঁর উদ্দেশে ডিম, ঢিল, এমনকী জুতোও ছুড়ে মারা হয়। নিরাপত্তারক্ষী ও জনা কয়েক তৃণমূল কর্মী–সমর্থক অভিষেককে রক্ষার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। অভিযোগ, পুলিশের থেকে পাওয়া হেলমেট পরিয়ে তৃণমূল সাংসদকে সেখান থেকে বের করার চেষ্টা করা হলেও কয়েকজনকে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁকে মারধর করতে দেখা যায়। হেলমেট খুলে মাথায় আঘাতেরও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার পরে তৃণমূল নেতৃত্ব অভিযোগ করেন, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং বিজেপি সমর্থিত। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয়েছে এবং একটি ইট তাঁর চোখের কাছে লাগে। যার প্রমাণ পরে ভিডিয়ো ফুটেজেও মেলে। তৃণমূল সাংসদ অভিযোগ করেন, ‘ওরা আমাকে মারতেই চেয়েছিল।’ একই সঙ্গে তিনি জানান, গোটা ঘটনার ভিডিয়ো ফুটেজ রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা হবে।