• মাঝ রাতে দমদম স্টেশনে চলল বুলডোজার
    আজকাল | ৩১ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বেআইনি নির্মাণ আর বরদাস্ত করা হবে না। রেলের জমিতে দিনের পর দিন অবৈধ দোকানের দখলদারিও আর চলবে না! সপ্তাহান্তে রাতের দিকে ভিড় খানিকটা কমতেই দমদম স্টেশনেও এবার চলল বুলডোজার। মাঝে রাতে দমদম স্টেশনের ভিতরে ও বাইরে একের পর এক দোকান, স্টল ভেঙে, গুঁড়িয়ে দিল বুলডোজার। 

    দমদম স্টেশনে অবৈধ দোকান সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আগেই নোটিশ দেওয়া হয়েছিল মালিকদের। কিন্তু তাতেও কোনও কাজ হয়নি। এমনকী গতকাল রাতে পৌঁছেও তাঁদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশ অমান্য হতেই তৎক্ষণাৎ কড়া পদক্ষেপ। শেষমেশ বুলডোজার অভিযান চালানো হয়। 

    রাত ১১টা নাগাদ দমদম স্টেশনে মোতায়েন ছিল বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী। খানিকক্ষণেই পৌঁছয় বিরাট পুলিশ বাহিনী, আরপিএফ এবং রেল পুলিশের আধিকারিকরা। প্রথমে মাইকিং করে দোকান ও স্টলগুলি সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও কাজ না হওয়ায়, বুলডোজার অভিযান শুরু হয়। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় একের পর এক স্টল, দোকান, গুমটি। 

    গত তিনদিন ধরেই রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাম ও সিটু কর্মীরা দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। দমদম স্টেশনের বাইরেও রাত পাহারা দিয়েছেন। গতকাল রাত ১২টা নাগাদ উচ্ছেদ অভিযানের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছন পাঁচবারের প্রাক্তন সিপিএমের সাংসদ তড়িৎ তোপদার, সিপিএমের নেতা সোমনাথ ভট্টাচার্য , গার্গী চ্যাটার্জী, ময়ূখ বিশ্বাসরা। তাঁদের সামনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন বহু দোকান, স্টলের মালিকরা। 

    প্রাক্তন সিপিএমের সাংসদ তড়িৎ তোপদার বলেন, "অনুরোধ করেছিলাম, একটা দিন সময় দিন। আমি রেল মন্ত্রীর সঙ্গে কাল কথা বলব।" কিন্তু তাঁর অনুরোধেও থামেনি বুলডোজার। এদিকে রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, নিত্যদিন অগণিত যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থেই অবৈধ দোকান চটজলদি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, রেল কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই তড়িঘড়ি অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে তারা সাহায্য করেছে। 

    প্রসঙ্গত, রাজ্যের নানা স্টেশনে হকার উচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে। নিজের জায়গায় দখলমুক্ত করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে ভারতীয় রেল। উচ্ছেদের আতঙ্কে দমদম স্টেশনে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এক মহিলা হকার। 

    রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন রেল স্টেশনে হকার উচ্ছেদের নোটিস ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। অভিযোগ, সেই আতঙ্কের আবহেই শুক্রবার দমদম স্টেশনে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এক মহিলা হকার। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় স্টেশন চত্বরে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মহিলা দীর্ঘদিন ধরে দমদম স্টেশনে হকারি করে সংসার চালাতেন। সম্প্রতি রেলের তরফে স্টেশন পরিষ্কার ও উচ্ছেদ অভিযান শুরু হওয়ায় স্টেশনের বহু হকারের মতো তিনিও ব্যবসা হারানোর আশঙ্কায় ভুগছিলেন। অভিযোগ, আর স্টেশনে ব্যবসা করতে পারবেন না, এমন আশঙ্কাতেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। 

    হকারদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনে ব্যবসা করে বহু পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছেন। হঠাৎ উচ্ছেদের সিদ্ধান্তে তারা কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ভবিষ্যতে কীভাবে সংসার চলবে, তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় রয়েছেন বহু হকার।
  • Link to this news (আজকাল)