"ভগবান আপনাকে ক্ষমা করবে না, দেখে নেব...", অভিষেকের চিকিৎসা হওয়া হাসপাতালের CEO-কে হুমকির অভিযোগ মমতার বিরুদ্ধে
আজ তক | ৩১ মে ২০২৬
৪ মে ভোটের ফলাফলে ব্যাপক জনাদেশ পেয়ে বাংলায় সরকার গড়েছে বিজেপি। তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় এক মাস। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ঝড় থামছেই না। শনিবারই সোনারপুরে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়। ঘটনায় অভিযোগের তীর রয়েছে বিজেপির দিকে। অভিষেককে রীতিমতো মারধরের পাশাপাশি, তাঁকে লক্ষ্য করে পাথর ও ডিম ছোড়া হয় বলে দাবি। কোনওক্রমে হেলমেট পরিয়ে অভিষেককে বাইরে বের করে আনা হয়।
'আপনি অন্যায় করেছেন...', হুমকি দেওয়ার অভিযোগ মমতার বিরুদ্ধে
সোনারপুরে ঘটনাস্থল থেকে সরাসরি অভিষেককে নিয়ে যাওয়া হয় বাইপাসের ধারে একটি হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে চিকিৎসা হয়নি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের। তড়িঘড়ি তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় মিন্টো পার্কের একটি হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসা করার পর 'অবস্থা গুরুতর নয়' বলে জানিয়ে বাড়ি ফেরত পাঠানো হয় অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়কে। আর এই বিষয় নিয়েই সরব হন মমতা।
অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়কে মিন্টো পার্কের বেলভিউ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁকে ভর্তি করানো হবে না কি ছেড়ে দেওয়া হবে, এ নিয়ে চাপানউতর চলে। অভিযোগ সেখানেই হাসপাতালের CEO-কে হুমকি দেন মমতা। ঘটনার একটি অডিও বার্তাও সামনে এসেছে। যদিও সেই অডিও-র সত্যতা যাচাই করেনি bangla.aajtak.in।
অডিও-তে কী শোনা যাচ্ছে?
একটি ভিডিও ক্লিপিংসের ব্যাকগ্রাউন্ডে চলছে অডিও। সেই অডিওতে থাকা মহিলার গলাকে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের বলে দাবি করা হচ্ছে। ভাইরাল হওয়া ক্লিপে তৃণমূল নেত্রীকে বলতে শোনা যাচ্ছে, "মিঃ ট্যান্ডন, আমি দুঃখিত, কিন্তু আপনি অন্যায় করেছেন। মনে করে দেখুন আমরা আপনাকে কতটা সাহায্য করেছি। ঈশ্বর আপনাকে ক্ষমা করবেন না। আপনি মানুষকে ভুল পথে চালিত করছেন। আপনার লজ্জা হওয়া উচিত। আপনার ঔদ্ধত্য সবাই মনে রাখবে।" এরপর অডিও কিছুক্ষণ অস্পষ্ট রয়েছে। পরে ফের শোনা যায় তৃণমূল সুপ্রিমোর আওয়াজ। তিনি বলছেন, "আপনি একটি হাসপাতাল চালাচ্ছেন, আর এখন কেন্দ্রে বিজেপি সরকার আছে। কাল যদি কেন্দ্রীয় সরকার চলে যায়, আমরা ব্যাপারটা দেখে নেব।"
চাপের মুখে অভিষেককে হাসপাতাল থেকে বাড়ি পাঠানো হয়: মমতা
মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের দাবি, অভিষেকের অবস্থা গুরুতর না হলে তাঁকে কেন প্রথমে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। আর যদি তার অবস্থা গুরুতরই হয়ে থাকে, তবে এখন চাপের মুখে তাঁকে কেন ছেড়ে দেওয়া হলো? তিনি এটিকে বড় ধরনের ত্রুটি বলে তোপ দেগেছেন। তৃণমূল নেত্রীর দাবি, “সারা গায়ে চাকা চাকা দাগ পড়ে গিয়েছে। কী ভাবে পাথর ছোড়া হয়েছিল! স্পট ডেড হয়ে যেতে পারত যদি স্থানীয়েরা হেলমেটটা না দিত। বুকের মাঝখানে, বুকের চারপাশে পুরো রক্ত জমে আছে।"
পরে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় জানান, " হাসপাতালে চিকিৎসার মতোই বাড়িতেই অভিষেকের চিকিৎসা করা হবে। সেখানে অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রাখা হবে। অভিষেকের কিছু হলে, তার জন্য হাসপাতাল দায়ী থাকবে।"