• সই কাণ্ডে খারিজ হতে পারে অনেকের বিধায়ক পদ! সিআইডি তদন্তে নির্ভর করছে তৃণমূলের বিরোধী মর্যাদা?
    প্রতিদিন | ৩১ মে ২০২৬
  • ২২ জুন থেকে বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। ৮০ জন বিধায়ক নিয়েও এখনই বিরোধী দলের মর্যাদা পাচ্ছে না তৃণমূল। সই জাল নিয়ে রাজ্য গোয়েন্দা দপ্তরের তদন্ত শেষের পরই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। অধিবেশন চলাকালীন বিরোধী আসনে বসলেও বিরোধী দলের মর্যাদা না পাওয়ায় ঘরও পাবে না তৃণমূল পরিষদীয় দল। কিন্তু বিরোধী সিপিএম, কংগ্রেস, আইএসএফ বা হুমায়ুন কবীর বসার ঘর পাবেন বলে বিধানসভা সূত্রের খবর। আর স্বাক্ষর জালের ঘটনা সত্যি প্রমাণিত হলে অনেকেরই বিধায়ক পদ খারিজ হতে পারে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।

    সম্প্রতি বিরোধী দলের মর্যাদা ও ঘর চেয়ে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর কাছে আবেদন জানায় তৃণমূল পরিষদীয় দল। প্রথমে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আবেদন জানালে অধ্যক্ষ খারিজ করে দেন। অভিষেকের দেওয়া চিঠির কোনও গুরুত্ব নেই বলে খারিজ করেন তিনি। সঙ্গে জানিয়ে দেন পরিষদীয় দলের বৈঠক ডেকে ন্যূনতম ৩০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর সম্বলিত বৈঠকের প্রস্তাবনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তৃণমূলের তরফে সেই প্রস্তাবনা জমা দেওয়া হলেও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি। প্রস্তাবনায় স্বাক্ষর করা বিধায়কদের অধিকাংশের স্বাক্ষর জাল বলে মনে করে বিধানসভা অধ্যক্ষ। বিষয়টি প্রকাশ হতেই সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেন অধ্যক্ষ। তদন্তের নির্দেশ পেয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রনাথ সিনহা ও কুণাল ঘোষ-সহ বেশ কয়েকজন সাংসদ ও বিধায়কের বাড়িতে যান সিআইডির কর্তারা।

    তৃণমূল পরিষদীয় দলের অভিযোগ, নতুন সরকার গঠনের পর পেরিয়ে গিয়েছে বেশ কিছুদিন। তা সত্ত্বেও বিধানসভায় বিরোধী পক্ষকে চরম অবহেলা করা হচ্ছে। বিরোধী দলনেতাকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির চিঠি দেওয়া হয়নি। এমনকী, পরিষদীয় দলনেতা বা বিরোধীদের বসার জন্য কোনও নির্দিষ্ট ঘরও বরাদ্দ করেনি বিধানসভা কর্তৃপক্ষ। সরাসরি তৃণমূলকে নিশানা করলেন বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়। শুধু বর্তমান ঘটনাই নয়, গত দেড় দশকের প্রশাসনিক নথি নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, অতীতেও কোনও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিতে জাল সই ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। তাঁর দাবি, শুধু রাজ্য নয়, দেশের কোনও বিধানসভাতেই এ ধরনের অভিযোগের নজির নেই। তাই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করছেন তিনি।
  • Link to this news (প্রতিদিন)