উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের খোড়া এলাকায় ১৭ বছরের কিশোর সূর্য প্রতাপ চৌহান খুনের ঘটনায় নয়া মোড়। শনিবার গভীর রাতে যোগী রাজ্যের পুলিশের সঙ্গে ‘এনকাউন্টার’-এ মৃত্যু হলো এই মামলার মূল অভিযুক্ত আসাদের। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে পুলিশ ধরতে গেলে সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ও গুলি চালায়। পাল্টা পুলিশের গুলিতে সে গুরুতর জখম হয়। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
বকরি ইদের দিন ১৭ বছরের কিশোরের খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে গাজ়িয়াবাদে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। নিহত সূর্য প্রতাপ চৌহান একাদশ শ্রেণির পড়ুয়া ছিল। গত ২৮ মে বকরি ইদের দিন খোড়া কলোনি এলাকায় বন্ধুর ডাকে বেরিয়েছিল সে। অভিযোগ, সেখানেই আসাদ এবং তার কয়েক জন সঙ্গী কিশোরকে ছুরি নিয়ে আক্রমণ করে। গুরুতর জখম অবস্থায় সূর্যকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরদিন তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সূর্যের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পরপরই তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল অভিযুক্ত এতদিন আসাদ পলাতক ছিল। তার সন্ধান পেতে মাথার দাম ৫০ হাজার টাকা বলে ঘোষণাও করা হয়। তার সন্ধানে খোড়া ও ইন্দিরাপুরম থানার একাধিক দল লাগাতার তল্লাশি চালাচ্ছিল।
গাজ়িয়াবাদের ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ ধবল জয়সওয়াল জানান, শনিবার রাতে পুলিশের কাছে খবর আসে যে, আসাদ এলাকায় এসে সহযোগীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পালানোর পরিকল্পনা করছে। এর পরে বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড করে চেকিং শুরু হয়। সেই সময়ে মোটরবাইকে এক সহযোগীকে নিয়ে আসাদকে আসতে দেখা যায়। পুলিশ তাকে থামানোর চেষ্টা করলে সে গুলি চালায় বলে দাবি তদন্তকারীদের। তাকে আটকাতে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে আসাদ আহত হয় এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনায় এক পুলিশকর্মীও গুলিবিদ্ধ হন এবং তাঁর চিকিৎসা চলছে।
এদিকে এনকাউন্টারস্থল থেকে একটি মোটরবাইক ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। যদিও আসাদের সঙ্গে থাকা অন্য ব্যক্তি পালিয়ে যায়। তার খোঁজে তল্লাশি চলছে। তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার আগে সূর্য ও তার বন্ধুদের বকরি ইদ উপলক্ষে ডাকা হয়েছিল। নিহতের বন্ধু বিকির দাবি, আসাদ নাকি সূর্যকে বলেছিল, ‘তুমি কখনও বকরা হালাল হতে দেখেছ?’ এর পরে ‘চলো দেখাই’ বলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বচসা শুরু হলে ছুরি দিয়ে একাধিক বার আঘাত করে সূর্যকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ।
সূর্যের দাদা যশ চৌহান পুলিশের কাছে অভিযোগে জানান, আসাদ সরাসরি হত্যার উদ্দেশ্যেই সূর্যের পেটে একাধিক বার ছুরি দিয়ে আঘাত করে। ঘটনার পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন বিক্ষোভ দেখায় এবং দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারি ও কঠোর শাস্তির দাবি তোলে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এনকাউন্টারের পরে সূর্যের মা সংবাদমাধ্যমের সামনে বাকিদের অভিযুক্তের বিরুদ্ধেও একই রকম কঠোর ব্যবস্থা চান। উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য জানিয়েছেন, দোষীদের কাউকেই ছাড়া হবে না। অন্যদিকে বিএসপি নেত্রী মায়াবতী ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। গোটা এনকাউন্টার প্রক্রিয়াও নিয়মমাফিক তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।