• রেলের অভিযানে বরাকরে গৃহহীন ২০ গরিব পরিবার, দুর্গাপুরে ভাঙা হলো তৃণমূল কার্যালয়ও
    এই সময় | ৩১ মে ২০২৬
  • এই সময়, বরাকর ও দুর্গাপুর: আবারও বুলডোজার চলল বরাকর ও দুর্গাপুরে। বরাকরের বালতোড়িয়ার কালিনগর অঞ্চলে বুলডোজার গৃহহীন করে দিল প্রায় ২০টি পরিবারকে। এ দিনই দুর্গাপুরে তৃণমূলের একটি কার্যালয় বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের সাংগঠনিক ১ নম্বর ব্লক সভাপতি তথা প্রাক্তন কাউন্সিলার রাজীব ঘোষের দলীয় কার্যালয় ছিল এটি।

    বরাকরের কালিনগরে রেলের জমিতে ঝুপড়ি বানিয়ে বাস করছিলেন গরিব মানুষ। অবৈধ নির্মাণ বলে চিহ্নিত করে গত ১৫ মে ওই ঝুপড়ির উপরে প্রথম বুলডোজার চালিয়ে রেল ভেঙে দিয়েছিল ১৫টি ঘর। শনিবার সকালে ফের ওই এলাকায় বুলডোজার নামানো হয়। বিরাট সংখ্যায় আরপিএফ ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। বুলডোজার পৌঁছতেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন এলাকাবাসী। অনেকেই ঘরের জিনিসপত্র তখনও সরিয়ে ফেলতে পারেননি। তড়িঘড়ি সে সব সরানোর কাজে নামেন বাসিন্দারা। কিন্তু বিক্ষোভ সত্ত্বেও বুলডোজার থামেনি। চোখের সামনে তাসের ঘরের মতো মাথা গোঁজার সামান্য আশ্রয়টুকু একের পর এক ভেঙে পড়তে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁরা।

    এই ঝুপড়িতেই ঘর-সংসার ছিল হৈমন্তি দেবীর। তিনি বললেন, 'বংশ পরম্পরায় এই এলাকায় প্রায় ৬০ বছর ধরে বাস করছি। পরিণতি এমন হবে, কখনও বুঝিনি।' আর এক বাসিন্দা সুনীল কেওট বললেন, 'পরিবার নিয়ে অথৈ জলে পড়লাম।' তিনি জানালেন, মাসিক তিন হাজার টাকার নীচে ঘর ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। নিজে দিনমজুরের কাজ করেন। সংসারের খরচ বাদ দিয়ে ওই টাকায় ঘর ভাড়া নেওয়ার সামর্থ নেই। গৃহহীন প্রতিটি পরিবারেরই এক কথা। রেলের তরফে জানানো হয়েছে, এক বছর ধরে একাধিক বার দখলকারীদের উঠে যাওয়ার নোটিস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেউই কথা কানে তোলেননি। জমি দখলমুক্ত করা না-যাওয়ায় ফ্রেট করিডরের কাজ মাঝপথে থমকে রয়েছে বলে রেলের দাবি।

    দুর্গাপুরে এ দিন তৃণমূলের যে কার্যালয়টি ভাঙা হয়েছে, ডিএসপি মেন হাসপাতালের সামনে দুর্গাপুর স্টিল প্লান্টের জমি দখল করে সেটি বানানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। বানিয়েছিলেন তৃণমূলের সাংগঠনিক ১ নম্বর ব্লক সভাপতি তথা প্রাক্তন কাউন্সিলার রাজীব ঘোষ। আবার সেই কার্যালয়ের ছাদে অবৈধ ভাবে দু'টি বিশালাকার হোর্ডিং লাগিয়ে প্রতি মাসে মোটা টাকা রোজগারও করতেন তিনি। এ দিন এই কার্যালয় ভাঙতে এসে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে প্রথমে ছাদে উঠে গ্যাস কাটার দিয়ে লোহার কাঠামোর মধ্যে লাগানো সেই হোর্ডিং সরিয়ে দেন কর্মীরা। তার পরে কার্যালয়টি ভাঙার কাজ শুরু হয়। কার্যালয়টি ভাঙার খবর পেয়ে বিজেপি কর্মীরা সেখানে জড়ো হন। কার্যালয়ে বুলডোজার চলতেই 'জয় শ্রীরাম' বলে স্লোগান দিতে থাকেন বিজেপি কর্মীরা। অভিযোগ, ২০২১-তে তৃতীয় বারের জন্য ক্ষমতায় আসার পরে এলাকায় কার্যত ত্রাস হয়ে উঠেছিলেন রাজীব। বিরোধীদের উপর আক্রমণ, তাঁদের মারধর করে বাড়ি ছাড়া করা-সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তিন দিন আগে রাতের অন্ধকারে বিজেপির এক নেতার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন রাজীব।

  • Link to this news (এই সময়)