• সীমান্ত পেরিয়েই পাসপোর্ট ফেলে দিয়েছিলেন শোভা! রানিপুকুরের মহিলাকে নিয়ে বাড়ছে রহস্য
    এই সময় | ৩১ মে ২০২৬
  • এই সময়, বর্ধমান: পূর্ত দপ্তরের জায়গায় নিজস্ব বাড়ি তৈরি করে বর্ধমান পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের লাকুর্ডি জলকল এলাকার রানিপুকুরের সামনে বহাল তবিয়তে রয়েছেন বাংলাদেশে থেকে আসা শোভা হিরা। তাঁর এই দেশে ঢোকা এবং রাতারাতি বসবাস করা নিয়ে প্রশ্ন আরও জটিল হচ্ছে।

    বাংলাদেশের দড়িউমাজুড়ি পূর্বপাড়া, চিতলমারি বাগেরহাট এলাকার বাসিন্দা শোভা হিরা তাঁর মেয়ে বুলু ও ছেলে সমুকে নিয়ে থাকেন এখানে। শোভার স্বামী ভাগ্যধর হীরা বর্তমানে বাংলাদেশে আছেন বড় মেয়ে সুক্তা হিরাকে নিয়ে। ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে শনিবার এই বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পরে এ দিন শোভার বাড়িতে আসেন প্রণব বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে বিজেপির এসটি মোর্চার রাজ্য কমিটির সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি রাজ্য এসটি মোর্চার নেতা শুভেন্দু দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওঁদের এখানে রাখার জন্য। জেলা বিজেপির সভাপতি অভিজিৎ তা–কেও আমরা তা বলব।’

    প্রণব নামে ওই ব্যক্তিকে প্রশ্ন করা হয়, সম্পর্কে শোভা তাঁর কে হন? প্রণব বলেন, ‘উনি আমার দূর সম্পর্কের মাসি হন।’ কিন্তু ওই এলাকারই বাসিন্দা সুব্রত মণ্ডল বলেন, ‘ওই লোকটি দালালের কাজ করে। অনেক লোককে বাংলাদেশ থেকে এখানে এনে বসিয়েছে। এটাই ওর কাজ।’ এলাকার বিজেপির এসটি মোর্চার সভাপতি কালাচাঁদ দাস বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে প্রণবকে ডেকে পাঠিয়েছিলাম। ওর সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। মিথ্যা কথা বলছে।’ যোগ করেন, ‘শোভা বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে এসেছেন। আগের সরকারের সময়ে আমাদের এখানে অনেকের উপরে অত্যাচার করেছে। পুলিশকে বলেছি, নিয়ম মেনে ওঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

    তিনি তা হলে কী ভাবে এখানে এসেছেন? শোভার মন্তব্য, ‘বনগাঁ সীমান্ত পেরিয়ে এসেছিলাম। তখন আমার কাছে পাসপোর্ট, ভিসা ছিল। তার মেয়াদ ছিল ছ’মাসের। দালাল সতর্ক করায় সেগুলো ফেলে দিয়েছিলাম।’ পাসপোর্ট কী করে ফেলে দিতে পারলেন? হিরার মেয়ে বুলু বলেন, ‘হারিয়ে গিয়েছে সব। আমরা থানায় অভিযোগ করেছি।’ তবে কোন থানায় কবে অভিযোগ করেছেন, সেই তথ্য তিনি দিতে পারেননি।

    সমু কোথায় রয়েছেন? শোভা বলেন, ‘ছেলে পুনেতে মাটি কাটার কাজ করে।’ যোগ করেন, ‘বাংলাদেশে আমার স্বামী ও মেয়ে থাকে। আমি পাঁচ বছর আগে এখানে এসেছিলাম, আর ফিরে যাইনি। স্বামীর সঙ্গে ফোনে কথা হয়।’ রাজ্যের নতুন সরকার এ বার যদি তাঁদের ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়, কি করবেন? শোভার জবাব, ‘আমরা সিএএ–র জন্য আবেদন করব। আগে ভয়ে তৃণমূল করতাম। এখানে থাকার জন্য বিজেপি করব।’

    বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ তা বলেন, ‘রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দল আর সরকার এক নয়, এটা আমাদের রাজ্য সভাপতি পরিষ্কার বলে দিয়েছেন। আইনের বাইরে গিয়ে বিজেপির কেউ এমন কোনও কাজ করবেন না। অনুপ্রবেশকারী হলে বাংলাদেশে ফিরে যেতেই হবে।’

  • Link to this news (এই সময়)