বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজের সামনে থেকে বেআইনি ক্যান্টিন সরিয়ে দিলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আর সেই ক্যান্টিন সরতেই সামনে বেড়িয়ে এল দুর্নীতি। সূত্রের খবর, ক্যান্টিনের পিছনে চাপা দেওয়া ছিল একটি শৌচালয় নির্মাণের বোর্ড। মিশন নির্মল বাংলা প্রকল্পের আওতায় সেখানে আধুনিক মানের শৌচালয় বানানোর কথা ছিল। এর জন্য বরাদ্দ হয়েছিল প্রায় ২৮ লক্ষ টাকা। অভিযোগ, সেখানে শৌচালয় তৈরি না করে জায়গা দখল করে চলছিল ব্যবসা।
সূত্রের খবর, ওই এলাকায় বাঁকুড়া পুরসভার তরফে একটি বোর্ড লাগানো হয়েছিল। সেই বোর্ডে লেখা ছিল ২৫ সালের নভেম্বরে কাজ শুরু হবে। তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে শৌচালয়ের চিহ্ন মাত্র নেই। ক্যান্টিন সরতেই এখন প্রশ্ন উঠছে, শৌচালয় গেল কোথায়? শৌচালয়ের টাকা গেল কোথায়? ঘটনায় বাঁকুড়া পুরসভার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে আরও তিনটি শৌচালয় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটিও হয়নি। শুধু বোর্ডগুলি পড়ে রয়েছে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের মদতেই শৌচালয়ের জায়গা বেআইনি ভাবে দখল করা হয়েছিল। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। এ দিন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ-সহ আধিকারিক ও স্থানীয় বিধায়ক।
বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ অধ্যক্ষ পঞ্চানন কুণ্ডু বলেন, ‘হাসপাতালের কোনও জায়গা জবরদখল করে রাখা যাবে না। হাসপাতালের কোনও জায়গা জবরদখল করে রাখা যাবে না। যদি জবরদখল করা হয় তাহলে আমরা কড়া ব্যবস্থা নেব।’ বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারপার্সন অলকা সেন মজুমদার বলেন, ‘সুডা দপ্তরের তরফে শৌচালয় তৈরির কাজ আপাতত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। যদিও কারও মনে হয় টাকা আত্মসাৎ করেছে পুরসভা, তাহলে তদন্ত করে দেখে নিতে পারেন।’ একই সঙ্গে ঘটনায় যথাযথ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন এলাকার বিধায়ক নিলাদ্রী শেখর দানা।