: বহু বছর ধরে থমকে থাকা আমঘাটা-নবদ্বীপ ঘাট রেল সম্প্রসারণ প্রকল্পকে ঘিরে নতুন করে আশার সঞ্চার হল নদিয়ার নবদ্বীপে। নবদ্বীপের বিধায়ক শ্রুতি শেখর গোস্বামী রেল দফতরের এডিআরএম টিআই-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং স্থানীয় প্রশাসনিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে আমঘাটা হল্ট স্টেশন থেকে নবদ্বীপ ঘাট পর্যন্ত অসমাপ্ত রেলপথের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এই পরিদর্শনে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন নবদ্বীপ ঘাট রেল স্টেশন বাঁচাও কমিটির সদস্যরাও।
দীর্ঘদিন ধরে জমি জট, প্রশাসনিক জটিলতা এবং বিভিন্ন কারণে বন্ধ হয়ে থাকা এই প্রকল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যেই এদিনের পরিদর্শন বলে জানা গিয়েছে। প্রতিনিধি দল আমঘাটা থেকে নবদ্বীপ ঘাট পর্যন্ত সম্ভাব্য রেলপথ ধরে হেঁটে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। পথে যেসব বাড়ি, দোকান বা জমি রেল প্রকল্পের আওতায় আসতে পারে, সেসব জায়গার বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন তাঁরা। স্থানীয়দের মতামত ও সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হয়।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক শ্রুতি শেখর গোস্বামী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্পকে জমি সমস্যার অজুহাতে আটকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এসে দেখলাম পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। অধিকাংশ মানুষই রেল প্রকল্পের পক্ষে এবং উন্নয়নের স্বার্থে সহযোগিতা করতে আগ্রহী। তাই এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় কোনও বাধা রয়েছে বলে মনে হচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “নবদ্বীপ ও মায়াপুর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র। নবদ্বীপ ঘাট পর্যন্ত রেল পরিষেবা চালু হলে লক্ষ লক্ষ ভক্ত, পর্যটক ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হবে। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিও লাভবান হবে। তাই এই প্রকল্প সম্পূর্ণ করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
এদিনের পরিদর্শনে সবচেয়ে বেশি আশাবাদী হয়ে উঠেছেন দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া নবদ্বীপ ঘাট রেল স্টেশন বাঁচাও কমিটির সদস্যরা। কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সুদীপ দেবনাথ জানান, প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁরা এই রেলপথ চালুর দাবিতে আন্দোলন করছেন। বহুবার বিভিন্ন দফতর ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে আবেদন জানান হলেও কার্যত কোনও অগ্রগতি হয়নি। তবে এদিনের পরিদর্শন তাঁদের নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। কমিটির সদস্যদের দাবি, বিধায়ক ও রেল কর্তারা শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক পরিদর্শনেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেছেন। এতে তাঁদের আস্থা অনেকটাই বেড়েছে।
অন্যদিকে স্বরূপগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান কানাই দাস বলেন, “আগেও রেলের তরফে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নানা কারণে কাজ এগোয়নি। বর্তমানে এলাকার মানুষ এই প্রকল্পের পক্ষে রয়েছেন। বিধায়ক নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আজ তার বাস্তব রূপ দেখা যাচ্ছে। আমরা আশা করছি খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।” স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, নবদ্বীপ ঘাট পর্যন্ত রেল পরিষেবা চালু হলে শুধু যাত্রী পরিষেবার উন্নতি হবে না, নবদ্বীপ-মায়াপুরের পর্যটন শিল্পেও নতুন গতি আসবে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই অঞ্চলে যাতায়াত করেন। ফলে রেল যোগাযোগ চালু হলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর উচ্চপর্যায়ের এই পরিদর্শন ঘিরে এখন আশায় বুক বাঁধছেন স্থানীয় মানুষ। তাঁদের প্রত্যাশা, এবার আর প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবের মাটিতে গড়াবে নবদ্বীপ ঘাট পর্যন্ত বহু প্রতীক্ষিত রেল সম্প্রসারণ প্রকল্প।