ভূতুড়ে বাড়ি এবার ফিরবে আসল চেহেরায়? শুরুতেই ৩৫ লক্ষ বরাদ্দের প্ল্যান! কী হতে চলেছে মঙ্গলকোটের এই হাসপাতালে
News18 বাংলা | ৩১ মে ২০২৬
: দূর থেকে দেখলে মনে হতে পারে বহুদিনের পরিত্যক্ত কোনও জায়গা। কোথাও ভাঙাচোরা দেওয়াল, কোথাও আগাছায় ঢেকে যাওয়া চত্বর, আবার কোথাও ব্যবহারহীন ঘর ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে ধ্বংসস্তূপে। প্রথম দেখায় একে ভূতুড়ে জায়গা বলে ভুল হতেই পারে। তবে এটি কোনও পরিত্যক্ত ভবন নয়, এটি পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট ব্লকের সিঙ্গত গ্রামীণ হাসপাতাল। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, হাসপাতালটি এখনও চালু রয়েছে। প্রতিদিন বহু রোগী এখানে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসেন এবং সীমিত পরিকাঠামো ও জনবলের মধ্যেও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু হাসপাতালের বাস্তব চিত্র সামনে এলে চোখ কপালে উঠবে যে কারও। হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর আত্মীয়া তাপসী দাস বলেন, “এখানকার পরিকাঠামো খুব খারাপ। চিতিকিৎসা হচ্ছে তবে সেভাবে পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে না। এই হাসপাতালের উন্নয়ন হলে বহু মানুষের উপকার হবে, আমরা সেটাই চাই।”
হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই, পর্যাপ্ত নার্সিং স্টাফ নেই, নেই পর্যাপ্ত জেনারেল ডিউটি এসিস্ট্যান্ট, রেডিও ডায়াগনস্টিক বিভাগ, ইসিজি বিভাগেও টেকনিশিয়ানের অভাব রয়েছে। এমনকি হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য স্থায়ী কোনও সুইপার পর্যন্ত নেই। হাসপাতালের সুপার অমিত কুমার রক্ষিত জানিয়েছেন, “হাসপাতালের পরিকাঠামো অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় রয়েছে। হাসপাতালের মূল ভবন থেকে শুরু করে কর্মীদের আবাসন প্রায় সবকিছুরই সংস্কার প্রয়োজন।” হাসপাতালের এক্স-রে রুম কার্যত অচল হয়ে পড়ে রয়েছে। যন্ত্রপাতি থাকলেও নেই প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান। নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও রয়েছে বড়সড় ঘাটতি। হাসপাতালের জন্য কোনও নিরাপত্তারক্ষী নেই। ফলে রাতের বেলা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যায় চিকিৎসক ও কর্মীদের মধ্যে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হল, হাসপাতালে একটি অপারেশন থিয়েটার রয়েছে। কিন্তু সেখানে কোনও অস্ত্রোপচার হয় না। প্রয়োজনীয় জনবল ও পরিকাঠামোর অভাবে অপারেশন থিয়েটারটি এখন কার্যত গুদামঘরে পরিণত হয়েছে। মূল্যবান জায়গা ও সম্পদ ব্যবহার না হয়ে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।
হাসপাতাল চত্বরে থাকা একাধিক বড় ভবনের অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়। ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসনগুলির অনেকগুলিই দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে জীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অন্যদিকে, রোগীদের পরিষেবা দেওয়ার জন্য যে অল্প পরিসর ব্যবহার করা হচ্ছে, তা কোনওরকমে সচল রাখা সম্ভব হলেও হাসপাতালের বিশাল অংশ কার্যত অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।সূত্রের খবর, কয়েক বছর ধরেই সিঙ্গত গ্রামীণ হাসপাতালের এই বেহাল চিত্র। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একাধিকবার জনবল সংকট ও পরিকাঠামোগত সমস্যার কথা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। তবে অভিযোগ, আশ্বাস মিললেও বাস্তবে সমস্যার সমাধানে তেমন কোনও উদ্যোগ চোখে পড়েনি। তবে সম্প্রতি এই হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন মঙ্গলকোটের নবনির্বাচিত বিধায়ক শিশির ঘোষ।
তিনি এই হাসপাতাল প্রসঙ্গে বলেন, “ওই হাসপাতালে বৃষ্টি হলে রোগীদের গায়ে টপ টপ করে জল পড়ে সেটা আমি নিজে দেখেছি। ওই জল বন্ধ এবং বৈদুতিকরণের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে সংস্কারের জন্য প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা খরচ হবে। ইতিমধ্যেই প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আমি জনসাধারণের কথা ভেবে একটা পানীয় জলের মেশিন বসানোর ব্যবস্থাও করে দেবো। আগামী দিনে ধীরে ধীরে আরও উন্নতিকরণ করা হবে।” সবমিলিয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবার অন্যতম ভরসাস্থল হওয়া সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, জনবল ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে ধুঁকছে সিঙ্গত গ্রামীণ হাসপাতাল। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর আরও বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে বিধায়ক শিশির ঘোষ দ্রুত কাজ শুরু হওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এখন দেখার কবে হাল ফেরে এই গ্রামীণ হাসপাতালের।