তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের। রবিবার পূর্ব বর্ধমান জেলার এক কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে সুকান্তের খোঁচা, ‘অ্যাসিড হলেই যদি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়, তা হলে তো হাসপাতালে এক লক্ষ করে বেড রাখতে হবে। আর আমরা জানি, ওসব নাটক।’ মনে করান সন্দেশখালিতে তাঁর উপরে আক্রমণের কথাও। জানান, দীর্ঘক্ষণ হাসপাতালের বাইরে পড়ে থাকতে হয়েছিল সে দিন।
বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলের ‘সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ডিজে’ বাজানোর কথা বলেছিলেন। যদিও সে সুযোগ হয়নি। বাংলার জনাদেশ ৭০-এ থামিয়ে দিয়েছে তৃণমূলকে। ২০৮টি আসনে জয়ী হয়ে বাংলায় প্রথম বার সরকার গড়েছে বিজেপি।
বাংলায় পালাবদলের ২৬ দিন পরে শনিবার প্রথম প্রকাশ্য কর্মসূচিতে দেখা যায় অভিষেককে। আর সেখানেই চরম জনরোষের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। কাঁচা ডিম, ইট উড়ে আসে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে লক্ষ্য করে। হেলমেট খুলে কিল-চড়-ঘুষি মারা হয়। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী, পুলিশ যৌথ ভাবে অভিষেককে বের করে আনেন।
কলকাতায় ফিরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় অভিষেককে। প্রথমে ইএম বাইপাসের উপরে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, এখানে চিকিৎসা হচ্ছে না। তাই অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন। এর পরেই মধ্য কলকাতার একটি নার্সিং হোমে নিয়ে যাওয়া হয় অভিষেককে। যদিও কোথাওই অভিষেককে ভর্তি রাখা হয়নি, তার প্রয়োজন হয়নি বলেই হাসপাতাল সূত্রে খবর।
এ দিকে এই ঘটনার পরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তোলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চাপ দেওয়া হয়েছে। যদিও বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘সিআইডি সোমবার ডেকেছে। তার আগে যদি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া যায়, তা হলে সিআইডির কাছে যেতে হবে না। তা-ও হতে পারে। ক্ষমতায় থাকলে উডবার্ন ওয়ার্ডে যেতেন। ভর্তি হওয়ার আগে জানতে হবে, রোগটা কী? মমতা বন্দোপাধ্যায় তো এমবিবিএস, এমডি সবই। আমাদের অত ডিগ্রি নেই।’
যদিও শনিবারের ঘটনা নিয়ে ইন্ডিয়া ব্লকের নেতারা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন। জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনরা এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন। সেগুলি শেয়ার করেছেন অভিষেক।
ইতিমধ্যেই শনিবারের ঘটনায় পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। যদিও তাঁদের অধিকাংশের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তৃণমূল যোগের কথাও উঠে আসছে। এ নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘এটা তৃণমূলের সঙ্গে তৃণমূলের গন্ডগোল। যাঁরা অভুক্ত ছিলেন, তাঁরা এখন আক্রমণ করছেন।’ আর সুকান্তর কথায়, ‘তারা কেন হঠাৎ পচা ডিম ছুড়ে মারল, তার উত্তর মমতা বন্দোপাধ্যায়কে দিতে হবে।’