আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোনারপুরে জনরোষের মুখে পড়েন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি। তাঁকে লক্ষ করে ডিম, কাদা, জুতো, পাথর, ইট ছোঁড়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত অবস্থায় কলকাতায় পৌঁছেই হাসপাতালে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু একাধিক হাসপাতাল তাঁকে ফিরিয়ে দেয়। অভিষেক ব্যানার্জির চিকিৎসা না হওয়া নিয়ে মমতা ব্যানার্জির অভিযোগের জবাব দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, "কালকের ঘটনার আসল রূপ সামনে আসছে। যে ছ'জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, তাঁরা সবাই তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী। তাঁরা কেন হঠাৎ পচা ডিম ছুঁড়ে মারলেন, তার উত্তর মমতা ব্যানার্জিকে দিতে হবে।"
তাঁর আরও দাবি, "অ্যাসিডিটি হলেই যদি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়, তাহলে এক লাখ করে বেড রাখতে হবে। আর আমরা জানি। ওসব নাটক।" তিনি বলেন, "পুলিশের মারে আহত হয়ে আমি নিজে সন্দেশখালিতে দীর্ঘক্ষণ হাসপাতালের বাইরে পড়েছিলাম। এই অভিজ্ঞতা আমার আছে।"
সুকান্তের দাবি, "সিআইডি সোমবার ডেকেছে। তার আগে যদি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া যায়, তাও হতে পারে। ক্ষমতায় থাকলে উডবার্ন ওয়ার্ডে যেতেন। ভর্তি হওয়ার আগে জানতে হবে, রোগটা কী? মমতা ব্যানার্জি তো এমবিবিএস, এমডি সবই। আমাদের অত ডিগ্রি নেই।"
প্রসঙ্গত, সোনারপুরে অভিষেক ব্যানার্জি পৌঁছতেই শুরু হয় তুলকালাম। মৃত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে যাওয়ার মাঝপথেই অভিষেককে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ শুরু হয়। মুহূর্তে পরিস্থিতি হয় ধুন্ধুমার। প্রথমে চোর চোর স্লোগান। পরে তাঁকে উদ্দেশ্য করে ঢিল, ডিম, জুতো ছোঁড়া হয়। দেখানো হয় কালো পতাকা। প্রবল জলরোষের জেরে নিরাপত্তার স্বার্থে অভিষেককে হেটমেট পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সময় ছিঁড়ে যায় অভিষেকের সাদা জামা।
এরপর অভিষেক বলেন, এখনও একমাস হয়নি। তার মধ্যেই এই অবস্থা। পুলিশকে বারবার বলা সত্ত্বেও এই ধরণের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এরপর তিনি মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেন। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন। সেখানে গিয়ে অভিষেক বলেন, "আমাকে মারার চেষ্টা করা হচ্ছে। মেরে দিক আমাকে। আমি এর শেষ দেখে ছাড়ব। একটা পুলিশ নেই। দরজা ভাঙার চেষ্টা চলছে।"
দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে অভিষেকের নির্দেশ, "এইরকম ঘটনা ঘটলে পুলিশকে হোয়াটসঅ্যাপ করে রাখুন। রেকর্ড থাকবে। আজকের ঘটনা নিয়ে আমি আদালতের দ্বারস্থ হব।"
এরপর কিছুক্ষণ পর অভিষেক ব্যানার্জির ওপর হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, শাসক হল হত্যাকারী। বিজেপির লজ্জা করা উচিত।
সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিকে ঘিরে বিক্ষোভ, ডিম ও ইট ছোঁড়ার ঘটনায় রাতভর তল্লাশি চালিয়ে ছ'জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।
শনিবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হামলা বলে দাবি করছে, অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে, এটি সাধারণ মানুষের ক্ষোভের স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ। তবে ঘটনার পর থেকেই প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে।