আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে একসঙ্গে ১৭ জন বাংলাদেশি নাগরিককে তাঁদের দেশে ফেরত (ডিপোর্ট) পাঠানো হলো। অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশ করে থাকার অভিযোগে গত কয়েকদিনে মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে পুলিশের হাতে আটক হওয়া ১৭ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে শনিবার রাতে বিএসএফের হাতে তুলে দিয়েছেন মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার আধিকারিকেরা। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই বিএসএফ এবং বিজিবি-র মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে ১৭ জন বাংলাদেশি নাগরিককে সেদেশে ভারত সরকারের তরফ থেকে 'ডিপোর্ট' করা হয়েছে।
সম্প্রতি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দেন অবৈধভাবে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের পুলিশের আর গ্রেপ্তার করার দরকার নেই। তার পরিবর্তে পুলিশ অনুপ্রবেশকারীদেরকে সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেবে এবং সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে।
মুখ্যমন্ত্রীর শুরু করা 'ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট' নীতি লাগু হতেই মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলার পদ্মা ভবনের তৈরি করা হয় একটি হোল্ডিং সেন্টার। সেখানেই এতদিন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদেরকে আটক করে রাখা হচ্ছিলো।
বিজেপির এক নেতা বলেন, আমাদের দলের নির্বাচনী ঘোষণাপত্রেই বলা হয়েছিল রাজ্যে আমাদের সরকার ক্ষমতায় এলেই এদেশে অবৈধভাবে বসবাসকারী রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশী নাগরিকদের চিহ্নিত করে তাদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে ইতিমধ্যেই সেই 'ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট' নীতি লাগু করা হয়েছে।
রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ায় মুর্শিদাবাদ জেলাতেই সব থেকে বেশি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। রাজনৈতিক তথ্যভিজ্ঞ মহলের মত, মুর্শিদাবাদ জেলায় যে সমস্ত ভোটারদের নাম ইতিমধ্যেই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে তাদের অনেকেই বাংলাদেশি নাগরিক। তারা অবৈধভাবে কোনওরকম নথি ছাড়াই বহু বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে বাস করছিল।
নির্বাচন কমিশন এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিক এবং রোহিঙ্গাদের চিহ্নিতকরণের কাজ এক প্রস্থ করেছে। এবার রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাকি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণ করে তাদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ শুরু করেছে প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প বন্ধ করে বিজেপি সরকার যে অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার প্রকল্প শুরু করেছে তার সুবিধা যাতে কোনও ভিনদেশী নাগরিক না পায় তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তরফ থেকে উপভোক্তাদের কাছ থেকে তাদের পরিবার এবং ভারতীয় নাগরিকত্বের একাধিক নথি চাওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের একাংশের অনুমান, বহু বাংলাদেশি নাগরিক যারা এতদিন লক্ষীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে আসছিল তাদের পক্ষে 'অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার' প্রকল্পের ফর্ম পূরণ করা সম্ভব হবে না। এর ফলে রাজ্য প্রশাসনের কোষাগারের কয়েক কোটি টাকা সঞ্চয় হবে।
মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, লালগোলার পদ্মা ভবনে হোল্ডিং সেন্টার তৈরি হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে ধরা পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদেরকে সেখানে এনে রাখা হচ্ছিল। শনিবার রাতেই ১৭ জন বাংলাদেশি নাগরিককে মুর্শিদাবাদ জেলায় বিএসএফের সদর দপ্তর 'রওশনবাগে' বিএসএফ কর্তাদের হাতে হস্তান্তরিত করা হয়েছে। সূত্রের খবর, এরপর বিজিবি-র সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী ওই বাংলাদেশি নাগরিকদেরকে তাদের দেশে 'ডিপোর্ট' করেছে।
জেলা প্রশাসনের ওই আধিকারিক জানান, এই মুহূর্তে লালগোলার হোল্ডিং সেন্টারে মোট ৯ জন বাংলাদেশের নাগরিক রয়েছে। এদের মধ্যে দু'জন বাংলাদেশি নাগরিককে নতুন করে শনিবার লালগোলার মোকিমনগর এলাকা থেকে ধরা হয়েছে। নতুন করে ধৃত ওই দুই বাংলাদেশি নাগরিক বেশ কয়েক বছর আগে অবৈধভাবে ভারতের প্রবেশ করে চেন্নাইতে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে চলে যায়। রাজ্যে বিজেপি সরকার বাংলাদেশি নাগরিকদের সম্পর্কে কড়া মনোভাব নেওয়া শুরু করতেই ওই দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিজের দেশে ফেরার চেষ্টা করছিল। শনিবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে লালগোলা থানার পুলিশ তাদের আটক করে এবং হোল্ডিং সেন্টারে পাঠিয়ে দেয়।
মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক গৌরীশংকর ঘোষ বলেন," ভারত স্বাধীন হওয়ার সময় কিছু ইসলাম ধর্মাবলম্বীর মানুষ কেবলমাত্র ধর্মের কারণে একটি দেশ চেয়েছিলেন। তাই বাংলাদেশ থেকে যে সমস্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ করছেন তাঁরা কেউ ধর্মীয় উৎপীড়নের শিকার নন। তাঁরা আমাদের দেশ লুট করার উদ্দেশ্যে এসেছেন।"
তিনি বলেন," এই বেআইনি অনুপ্রবেশের ফলে দেশের নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থানের উপরও বড় প্রভাব পড়েছে। রাজ্য সরকার আটক বাংলাদেশি নাগরিকদেরকে নিজের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিয়ে কোনও অন্যায় করেনি। এই ধরণের কাজ পৃথিবীর সমস্ত সভ্য দেশের সরকার করে থাকে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারও 'বৈধভাবে' অবৈধ নাগরিকদেরকে তাঁদের দেশে ফেরত পাঠিয়েছে।"
অন্যদিকে বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মলয় মহাজন রাজ্য সরকারের এই কাজের প্রশংসা করে বলেন," বিজেপি তার নীতির সঙ্গে সাজুজ্য রেখেই অনুপ্রবেশকারীদের নিজের দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে। ভারত তার অতিথীদেরকে সম্মান জানাতে জানে কিন্তু অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা কখনও ভারতের অতিথি হতে পারে না।"
তিনি বলেন," গত প্রায় ১৫ বছর একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল নিজেদের স্বার্থে অনুপ্রবেশে মদত দিয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদেরকে ধরার পর তাদেরকে বছরের পর বছর জেলে রাখা, আদালতে দীর্ঘদিন মামলা চালানো সহ আরও নানা কাজে এতদিন সরকারের প্রচুর টাকা ব্যয় হতো। নতুন রাজ্য সরকার বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের জন্য যে 'ডিপোর্ট' নিতী চালু করেছে তার ফলে রাজ্য সরকারের কোষাগারে বড় অংকের অর্থ সঞ্চয় হবে।"