• 'তৃণমূলই তৃণমূলের উপর আক্রমণ করছে' বললেন শমীক
    আজকাল | ৩১ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২৪ ঘন্টা যেতে না যেতেই জনরোষের মুখে তৃণমূলের দুই সাংসদ। রবিবার পথে নেমে আক্রান্ত সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ ব্যানার্জি। তাঁর উপর হামলা প্রসঙ্গে এ বার তৃণমূলকেই নিশানা করলেন শমীক ভট্টাচার্য।উত্তর ২৪ পরগনার প্রফুল্লনগরে দলীয় নেত্রী তনুজা চক্রবর্তীর প্রয়াত বাবাকে শ্রদ্ধা জানাতে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর উপর হামলার ঘটনায় বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই বলে স্পষ্ট দাবি করেন তিনি।

    শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, "এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির দূর দূরত্বেও কোনও সম্পর্ক নেই।" তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল থেকে সদ্য বিজেপিতে আসা কিছু ব্যক্তি বা সমর্থকদের ঘিরেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, "তৃণমূলই তৃণমূলের উপর আক্রমণ করছে। এগুলি ২৫-৭৫ ভাগের গণ্ডগোল।"

    বিজেপির রাজ্য সভাপতি আরও দাবি করেন, হাবরা-অশোকনগর সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এই ধরনের 'চার ঘণ্টার বিজেপি' হওয়া কর্মীরা সক্রিয় রয়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় দল আরও কিছুটা সময় চায় বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, "মন্ত্রিসভা গঠন হয়ে যাওয়ার পর এই বিষয়গুলি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।"

    এদিন তিনি অভিযোগ করেন, এই ধরনের বহু ব্যক্তি মূলত তৃণমূলেরই লোক, যারা বিজেপির পতাকা ব্যবহার করে বালি খাদান, পাথর খাদান-সহ বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে বিজেপি তা কোনওভাবেই বরদাস্ত করবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন শমীক ভট্টাচার্য। দলের কোনও বিধায়ক বা সাংসদ যদি এ ধরনের কর্মকাণ্ডে মদত দেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানান তিনি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী-র বার্তার উল্লেখ করে তিনি বলেন, "বাংলায় বিভাজনের রাজনীতি বা দখলদারি রাজনীতি চলতে দেওয়া হবে না। পশ্চিমবঙ্গকে হিংসামুক্ত করার লক্ষ্যেই বিজেপি কাজ করছে।"

    পুলিশের ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তাঁর দাবি, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রে সব জায়গায় গিয়ে পুলিশ রক্ষা করতে পারবে না। পুলিশের উপর সমস্ত দায় চাপিয়ে দেওয়াও উচিত নয় বলে মত প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।

    উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের গ্রেপ্তারি, আটকের প্রতিবাদে রবিবার ডেপুটেশন জমা দেওয়ার কর্মসূচি ছিল হুগলির চণ্ডীতলা থানার কাছে। তৃণমূলের সেই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে গিয়েছিলেন কল্যাণ ব্যানার্জি। সেখানেই তাঁকে দেখে স্লোগান ওঠে। 'চোর চোর' স্লোগানের পরেই হামলার অভিযোগ। তাঁকে ঘটনাস্থলেই মাঝরাস্তায় লুটিয়ে পড়তে দেখা যায়। তিনি অভিযোগ করেন, বারবার টার্গেট করা হচ্ছে সাংসদদের।
  • Link to this news (আজকাল)