'INDIA একজোট', রাহুলকে 'জি' সম্বোধন করে ধন্যবাদ জানালেন অভিষেক
আজ তক | ৩১ মে ২০২৬
তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছে বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। বিজেপি বিরোধী দেশের প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতারা কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন এবং তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই ঘটনায় সহমর্মিতা প্রকাশ করে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও। এই নিয়ে রাহুলকে ধন্যবাদ জানালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাহুল গান্ধী পাশে দাঁড়িয়েছেন জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার বলেন, 'রাহুল গান্ধী আমাকে ফোন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন যদি কোনো সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তবে আমি যেন তাঁকে জানাই। প্রয়োজনে তিনি অভিষেককে চিকিৎসার জন্য হায়দরাবাদ বা দেশের অন্য যেকোনও জায়গায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও করতে পারেন।'
রবিবার ট্যুইটে অভিষেক লেখেন, 'আপনার উদ্বেগ এবং অবিরাম সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ, রাহুলজি। ভারতের আত্মাকে রক্ষা করতে, এর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করতে এবং আমাদের সংবিধানে রক্ষিত মূল্যবোধগুলোকে বজায় রাখতে আমরা আমাদের সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। গত বছর, আমি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সর্বদলীয় প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে পাঁচটি দেশ ভ্রমণ করেছি। আমি আমার দেশকে রক্ষা করেছি এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছি। আজ, আমি রাজনৈতিক হিংসা এবং রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষিত সন্ত্রাসবাদের শিকার, যা তাদের দ্বারাই সংঘটিত হয়েছে যারা নিজেদের জাতীয়তাবাদের রক্ষক বলে দাবি করে। এটাই আজকের বিজেপির বাস্তবতা। আপনি তাদের সমর্থন করলে, আপনি দেশপ্রেমিক। তাদের প্রশ্ন করলে, আপনি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। আপনি তাদের পাশে দাঁড়ালে, আপনাকে বাহবা দেওয়া হয়। আপনি তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ালে, তারা আপনাকে চুপ করানোর চেষ্টা করে। নীতি বিসর্জন দিয়ে আরামে থাকার চেয়ে আমি বরং গণতন্ত্র রক্ষা করতে গিয়ে ভীতি প্রদর্শনের মুখোমুখি হব। ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী। জনগণের ইচ্ছেই চিরস্থায়ী। আমি কেবল জনগণের সামনেই মাথা নত করব, ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের সামনে কখনো নয়। যারা গণতন্ত্রকে দুর্বল করতে এবং আমাদের দেশকে বিভক্ত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমরা আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাব। INDIA ঐক্যবদ্ধ এবং আমরা একসঙ্গে নিশ্চিত করব যে ভয়, ঘৃণা, হিংসা এবং ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতি পরাজিত হয় এবং জনগণের কণ্ঠস্বর জয়ী হয়।'
প্রসঙ্গত, অভিষেকের ওপর হামলার ঘটনার পরে একে একে সরব হন দেশের বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা। এক্স মাধ্যমে ঘটনার নিন্দা জানান সপা নেতা অখিলেশ যাদব থেকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রত্যকেই। এটা কোনও গণতন্ত্র নয় বলেই গর্জে ওঠেন তাঁরা। হামলার নিন্দা করেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনও। উল্লেখ্য আগামী ৬ জুন ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক হওয়ার কথা। সম্প্রতি এই বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন বলে সূত্রের খবর। তার আগে ইন্ডিয়া জোটের নেতারা যেভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিষেকের পাশে দাঁড়ালেন তা রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।