দল যখন ক্ষমতায়, তখন কংগ্রেস-সহ ইন্ডিয়া জোটের অনেক দলকে সেভাবে পাত্তাই দিত না তৃণমূল কংগ্রেস। রাহুল গান্ধীর যখন সাংসদ পদ খোয়া গেল, বাড়ি ছাড়া হতে হল তখনও সেভাবে সরব হতে দেখা যায়নি তৃণমূল নেতাদের। কিন্তু সেসব ভুলে তৃণমূলের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেস-সহ ইন্ডিয়া জোটের অন্যান্য শরিকরা। রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে অখিলেশ যাদব সকলেই সহমর্মিতা জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন সোশাল মিডিয়ায়। এবার অভিষেক তাঁদের পালটা সৌজন্য দেখালেন। পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানালেন।
শনিবার সোনারপুরের কামরাবাঁধে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক আক্রান্ত হন। নিহত দলীয় কর্মীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। শনিবার কামালগাজির কাছে তাঁকে মহিলারা কালো পতাকা দেখান। এরপর সোনারপুর ঢুকতেই অভিষেককে ডিম ছোড়া হয়, ওঠে ‘চোর’ স্লোগান। অভিষেকের পোশাকে অপরিষ্কার হয়ে যায় ছোড়া ডিমে। তিনি গাড়ি থেকে নেমে একটি বাইকে চড়ে গন্তব্যে যেতে চাইলে সেখানেও প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। মাথায় হেলমেট থাকায় ডিম এসে পড়ে তাঁর মাথায়।
অভিষেকের উপর এই হামলার ঘটনায় গতকাল রাত থেকেই কেন্দ্রীয় স্তরের ইন্ডিয়া জোটের নেতারা সরব হওয়া শুরু করেন। মল্লিকার্জুন খাড়গে থেকে শুরু করে রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, হেমন্ত সোরেন, ডি রাজা সকলেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পাশে দাঁড়ান। রবিবার সকালে রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, হেমন্ত সোরেনদের ধন্যবাদ জানান অভিষেক। তিনি সোশাল মিডিয়ায় বলেন, ‘এভাবে সর্বদা আমার পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ রাহুলজি। ভারতের আত্মাকে রক্ষা করতে আমরা একসঙ্গে লড়াই করব। আমাদের সংবিধানকে রক্ষার জন্য, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে বাঁচানোর জন্য এক হয়ে লড়াই করব।’ অভিষেক দাবি করেন, ‘গত বছর এই সময় আমি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে গোটা বিশ্বে কেন্দ্রের অবস্থান নিয়ে সরব হয়েছি। আজ আমি নিজেই সন্ত্রাসের শিকার।’ অখিলেশকেও একইভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অভিষেক। অখিলেশকে জবাবি পোস্টে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক লেখেন, ‘ওরা যদি ভেবে থাকে মারধর করে আমাদের মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়া যাবে, তাহলে ওরা ভুল করছে।’ হেমন্ত সোরেন, মল্লিকার্জুন খাড়গেদেরও ধন্যবাদ জানান অভিষেক।
বস্তুত বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইন্ডিয়া জোটকে ঐক্যবদ্ধ করার কথা বলেছিলেন। সর্বভারতীয় স্তরে ‘ফ্রি বার্ড’ হয়ে কাজ করার বার্তাও দেন। এমনকী ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের একজোট করার চেষ্টাও শুরু করেছেন মমতা। এবার অভিষেক আক্রান্ত হওয়ার পর ফের ইন্ডিয়াকে একজোট করার চেষ্টা শুরু হয়েছে।