১০০ দিনের কাজের টাকা আত্মসাতে গ্রেপ্তার ২ তৃণমূল নেতা! অভিযুক্ত জেলা সভাপতি-সহ ১৭
প্রতিদিন | ৩১ মে ২০২৬
১০০ দিনের কাজের টাকা আত্মসাৎ! গ্রেপ্তার দুই তৃণমূল নেতা। এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে দলের জেলা সভাপতিরও। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল, শনিবার রাতে কাটোয়া স্টেশন বাজার এলাকা থেকে দিগন্ত পাল নামে এক তৃণমূল নেতাকে আটক করে পুলিশ। পরে একই মামলায় বিশ্বনাথ সাহা নামে আর এক তৃণমূল নেতাকে পাকড়াও করা হয়।
উপভোক্তাদের অন্ধকারে রেখে তাঁদের নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে বছরের পর বছর ১০০ দিনের কাজের টাকা আত্মসাৎ করে নেওয়া হয়েছে। কাটোয়ার কড়ুই অঞ্চলে এমন অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় স্থানীয় কয়েক জন তৃণমূল নেতার পাশাপাশি নাম জড়িয়েছে তৃণমূলের পূর্ব বর্ধমান জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা দিগন্ত পালের। কাটোয়া-২ ব্লকের কড়ুই অঞ্চলের নতুনগ্রামের বাসিন্দা ওমর আলি শেখ এই অভিযোগ দায়ের করেছেন। পেশায় ট্রাকচালক ওমরের দাবি, কয়েক দিন আগে তিনি জানতে পারেন তাঁর নামে পশ্চিমবঙ্গ গ্রামীণ ব্যাঙ্কের কৈথন শাখায় একটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। শুধু তাঁরই নয়, গ্রামের আরও বহু বাসিন্দার নামে এমন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। অথচ সেসব অ্যাকাউন্টের কথা ঘুণাক্ষরেও জানতেন না তাঁরা।
অভিযোগ, ওই সব অ্যাকাউন্টে ২০১৬ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের টাকা জমা হয়েছে এবং পরে তা তুলে নেওয়া হয়েছে উপভোক্তাদের না জানিয়েই। অভিযোগকারীর দাবি, এই অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে এলাকার ছোট বড় মিলে কয়েক জন তৃণমূল নেতাকর্মীরা জড়িত। অভিযোগে জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, তাঁর আপ্ত সহায়ক দিগন্ত পাল, বিশ্বনাথ সাহা এবং কড়ুই অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি সুকেশ চট্টোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপরই রাতে দিগন্ত পাল ও বিশ্বনাথ সাহাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বাকিদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় বিজেপি নেতা স্বপন দত্ত বলেন, “তৃণমূলের নেতারা এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। এত দিন মানুষ ভয় পেতেন। এখন তাঁরা সামনে এসে অভিযোগ জানাতে পারছেন।” যদিও তৃণমূলের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ও অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিজেপি প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে মিথ্যা অভিযোগ তুলে আমাদের মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে।”