দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের দখলে ছিল সরকারি শৌচালয়। অবেশেষে খুলল গেট। শুধু তাই নয়, তৃণমূল জমানায় তালা পড়া শিশু উদ্যানও খুলে দেওয়া হল। তারপরেই ঝাঁটা হাতে স্বচ্ছ অভিযানে নামল কর্মীরা। পার্কের আগাছা পরিষ্কার থেকে শৌচালয় পরিষ্কার। বিজেপি কর্মীদের উদ্যোগে দুর্গাপুরে দখলমুক্ত হল সরকারি শৌচালয়, পার্ক।
অভিযোগ, দুর্গাপুরের গোপালমাঠ বাসস্ট্যান্ডে দুর্গাপুর নগর নিগমের কমিউনিটি শৌচালয় দীর্ঘদিন ধরে দখলে ছিল স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের। সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য তৈরি হলেও সবসময়ই তালাবন্দি অবস্থায় পড়ে থাকত শৌচালয়টি। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, তৃণমূল নেতাদের বিশেষ কিছু অনুষ্ঠান বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সেটি খোলা হলেও সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত হতে হত। এই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল এলাকায়। বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে শুরু করেছে প্রশাসনিক আধিকারিক ও বিজেপি কর্মীরা।
সেরকমই রবিবার সকালে বিজেপি কর্মীরা সেখানে জড়ো হন। বিজেপির দাবি, সাধারণ মানুষের স্বার্থে শৌচালয়টি দখলমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা বিজেপি যুব মোর্চার সহ-সভাপতি সুমন গোপ হাতুড়ি দিয়ে তালা ভেঙে শৌচালয়ের দরজা খুলে দেন। এরপর দলীয় কর্মীদের নিয়ে ঝাঁটা হাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজেও নেমে পড়েন তিনি। শুধু শৌচালয়ই নয়, বিজেপির অভিযোগ, পাশের একটি শিশু উদ্যানও দীর্ঘদিন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল। রবিবার সেটিকেও শিশুদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। বিজেপি কর্মীরাই নিজেরাই পার্কের আগাছা পরিষ্কার করেন।
বিজেপির জেলা যুব মোর্চার সহ-সভাপতি সুমন গোপ বলেন, “মহিলা-সহ সাধারণ মানুষ এবং দূরদূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের শৌচালয়ের অভাবে সমস্যায় পড়তে হত। অথচ সরকারি টাকায় তৈরি এই শৌচালয় তালাবন্দি করে রাখা হয়েছিল। বহুবার খোলার দাবি জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয় তৃণমূল নেতারা এটিকে নিজেদের সম্পত্তি বলে মনে করতেন। তাই আজ আমরা সাধারণ মানুষের স্বার্থে তালা ভেঙে শৌচালয়টি খুলে দিয়েছি। শিশু উদ্যানটিও শিশুদের জন্য উন্মুক্ত করা হল।”