রাজ্য জুড়ে মহিলাদের জন্য চলছে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ। বারো পাতার অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ নিয়ে, আতঙ্কিত অনেকেই। তাই এবার নিজেই ফর্ম পূরণ করতে এগিয়ে এলেন খোদ সিপিআইএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা। ডোমকলে দেখা গেল এমনই চিত্র। যে সিপিআইএম একটা সময়ে তৃণমূল সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-কে দান-খয়রাতি বলে উল্লেখ করেছিল, সেই দলেরই একমাত্র বিধায়ককে দেখা যাচ্ছে মাসিক অনুদানের টাকা পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ফর্ম ফিলআপে সাহায্য করতে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াচ্ছে অন্নপূর্ণা যোজনার নামে সব তথ্য নিচ্ছে সরকার।
সব অভিযোগকে পিছনে ফেলে ডোমকলের বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রানা বললেন, ‘কোনও ভয় নেই, অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম নির্ভয়ে সবাই ফিলাপ করুন। সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানো হচ্ছে। অগাস্ট থেকেই জনগণনা শুরু হবে, সেখানে সব তথ্য এমনি দিতে হবে। আর এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আওতায় আসুক যোগ্য ব্যক্তিরা, তাই গুজবে কান না দিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ করুন।’ এমনটাই দাবি ডোমকল তথা রাজ্যের একমাত্র সিপিআইএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রানার।
১১-১২ পাতার অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিলআপ করতে গিয়ে নাকানি-চোবানি খাচ্ছেন অধিকাংশ মহিলা। ফর্ম দেখে কার্যত ভিড়মি খাচ্ছেন অনেকে। কেউ কেউ বলছেন, ৩ হাজার টাকার জন্য বাড়ির হাঁড়ির খবরও নিয়ে নিচ্ছে সরকার! তবে প্রশাসনের বক্তব্য, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বহু ভুয়ো নাম ঢুকেছিল। তাই প্রতিটি পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থান বিবেচনা করেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার দেওয়া হবে।
বিধায়ক মুস্তাফিজুর বলেন, ‘নতুন প্রকল্প, তাছাড়া মানুষের মধ্যে একটা বিভ্রান্তি রয়েছে। মুসলিম এলাকার মানুষ ভাবছেন, এই ফর্ম দিয়েই এনআরসি করা হবে। সে কারণে আমি বিধায়ক হিসেবে কিছুজনের ফর্ম ফিলআপ করে দিলাম। তাঁদের বলার চেষ্টা করলাম, না এটা সরকারি প্রকল্প, তথ্য নেওয়ার কোনও ব্যাপার নয়।’
স্থানীয়দের মধ্যে ‘রানাদা’ নামেই পরিচিত তিনি। তাঁর কথায়, ‘আমি তো এইসব কাজ করেই থাকি। গ্রামের বাড়ি তো আমার, সব সমস্যাতেই মানুষে আসেন। নিজে হাতেই অনেক কাজ করতে হয়। বাড়ির আশপাশের মহিলারা কোথায় যাবেন, আমার কাছেই তো আসবেন। আমার তো আর শহরের গেট লাগানো বাড়ি নয়।’