উত্তরাখণ্ডের চারধাম যাত্রায় গিয়ে তীব্র যানজটের মুখে হাজার হাজার পুণ্যার্থী। জোশীমঠের কাছে জাতীয় সড়কের (NH-7) একাধিক অংশে মাইলের পর মাইল গাড়ির লম্বা লাইন লেগে গিয়েছে। ট্র্যাফিক সামলাতে সে রাজ্যের প্রশাসনের তরফে বিশেষ টোকেনের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল একাধিক ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, বদ্রীনাথ ধাম এবং হেমকুণ্ড সাহিবের দিকে যাওয়ার রাস্তায় গাড়িগুলি ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
চামোলির পুলিশ সুপার (SP) সুরজিৎ সিং পনওয়ার জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার পুণ্যার্থী বদ্রীনাথ ধামে যাচ্ছেন। এর সঙ্গে ৫ থেকে ১০ হাজার মানুষ রওনা দিচ্ছেন হেমকুণ্ড সাহিবের দিকে। বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর আগমনে জাতীয় ও রাজ্য সড়কগুলির অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জোশীমঠ-মারওয়ারী-বিষ্ণুপ্রয়াগ অংশের প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় রয়েছে। কয়েক বছর আগে জোশীমঠ এলাকায় যে ধস নেমেছিল, তার ফলে ওই এলাকার রাস্তার পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে। সেই পরিকাঠামোগত সমস্যার সমাধান না হওয়ার কারণেই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
খারাপ ও সরু পাহাড়ি রাস্তার কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের তরফে একমুখী ট্র্যাফিক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। জোশীমঠের নৃসিংহ মন্দিরের কাছে টোকেন সিস্টেমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই এলাকা থেকে প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর গাড়িগুলিকে ব্যাচ বা দলে দলে ছাড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে পুণ্যার্থীরা যানজটে না ফেঁসে সহজেই মন্দির দর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই ট্র্যাফিক প্ল্যান বেশ কার্যকর। তবে হিমালয়ের এই তীর্থক্ষেত্রগুলিতে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে প্রশাসন ক্রমাগত পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। রুদ্রপ্রয়াগ জেলা প্রশাসন পুণ্যার্থীদের ধৈর্য বজায় রাখার এবং সমস্ত সরকারি নির্দেশ মেনে চলার অনুরোধ করেছে।
অন্য দিকে রুদ্রপ্রয়াগে ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে জারি হয়েছে কমলা সতর্কতা (Orange Alert)। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে সে রাজ্যের প্রশাসনের তরফে সাময়িক ভাবে কেদারনাথ যাত্রা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কেদারনাথের পাহাড়ি রাস্তায় থাকা সমস্ত পুণ্যার্থীকে নিকটবর্তী হোল্ডিং পয়েন্টে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কাউকে এগোতে দেওয়া হবে না।