• যৌন ব্যবসার উদ্দেশ্যে পাচারে শিশুর ‘সম্মতি’ বিচার করা অর্থহীন, স্পষ্ট জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট
    এই সময় | ০১ জুন ২০২৬
  • যৌন ব্যবসা এবং শোষণের জন্য শিশু পাচার হলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা করা যাবে। সেখানে পাচারের শিকার হওয়া শিশুর ‘সম্মতি বা ইচ্ছা’ ছিল কি না, তা বিচার্য নয় এবং আইনতও সম্পূর্ণ অর্থহীন। অপরাধীরা বলপ্রয়োগ করেছিল, নাকি ভয় দেখিয়েছিল, তা-ও বিবেচ্য নয়। আইন অনুযায়ী, শিশুরা যৌন ব্যবসায় শোষণের শিকার হলেই তা ‘অসম্মতিসূচক’ হিসেবে গণ্য হবে। এ কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট।

    যৌন ব্যবসায় শোষণের শিকার যাঁরা, তাঁদের অধিকার রক্ষা এবং মানুষ পাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপের আর্জি জানিয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে কিছু নির্দেশ জারি করেছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ জানিয়েছে, শুধু শিশুদের ক্ষেত্রেই নয়, যদি কোনও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে ভয় দেখিয়ে, বলপ্রয়োগ করে, অপহরণ, জালিয়াতি, প্রতারণা বা ক্ষমতার অপব্যবহার করে যৌন ব্যবসায় নামানো হয়, তবে সেখানেও ওই ব্যক্তির ‘সম্মতি’ সম্পূর্ণ অর্থহীন বলে গণ্য হবে। ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করে দিয়েছে, পাচারে ‘সম্মতি’ ছিল নাকি ছিল না, তা বিচার করার প্রয়োজনই নেই এই সংক্রান্ত অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে। এ ক্ষেত্রে শুধু অপরাধী কী করেছে, কী তার উদ্দেশ্য ছিল, তা-ই দেখা হবে। সম্মতি ছিল কি না, তাকে অপরাধী আইনি ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতেই পারবে না।

    বিচারপতিরা জানিয়েছেন, যাঁরা পাচারের শিকার, তাঁদের শুধুমাত্র অসহায় হিসেবে দেখা বন্ধ করতে হবে। বরং এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা নিজেদের ক্ষমতায়নের জন্য নিজেরাই সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ (বাঁচার অধিকার) এবং ২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের উপযুক্ত পুনর্বাসন দেওয়া রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সঠিক পুনর্বাসন না পেলে, ভুক্তভোগীরা আবার সেই সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভাবে অসহায় পরিস্থিতির মধ্যে পড়বে।

  • Link to this news (এই সময়)