• অভিষেক-কল্যাণের উপর হামলা তৃণমূলের ৭৫-২৫ ভাগ বাটোয়ারার লড়াই, বললেন শমীক
    এই সময় | ০১ জুন ২০২৬
  • দুই তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় বিজেপি জড়িত নয়। তৃণমূলের অন্দরে ‘৭৫-২৫ ভাগ বাটোয়ারা’ নিয়ে লড়াইয়ের কারণেই এই হামলা হয়েছে বলে মন্তব্য করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

    শনিবার সোনারপুরে নিহত দলীয় কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক। সেখানে শুধু ‘চোর’ স্লোগান দেওয়াই নয়, তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম-জুতো-ঢিল ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ। আরও অভিযোগ, প্রবল জনরোষের মধ্যে ধস্তাধস্তি-হাতাহাতির সময়ে তাঁকে মারধরও করা হয়েছে। চড়-ঘুষি মারা হয়েছে তাঁর মুখে-বুকে-ঘাড়ে। সেই ঘটনা নিয়ে শনিবার বিকেল থেকে চাপানউতরের মধ্যেই রবিবার হেনস্থা হতে হয়েছে শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণকেও। তৃণমূল কর্মীদের গ্রেপ্তারি, আটকের প্রতিবাদে রবিবার সকালে চণ্ডীতলা থানায় ডেপুটেশন জমা দিতে গিয়ে তিনিও আহত হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়া হয়েছে। তাতে মাথায় আঘাত লেগে তৃণমূল সাংসদকে পড়ে যেতে দেখা যায়।

    তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বিজেপি ‘পরিকল্পনা’ করে কল্যাণের উপরে হামলা চালিয়েছে। ঠিক যেমন শনিবার অভিষেকের উপর করা হয়েছিল। তার প্রেক্ষিতেই রবিবার দুপুর হাবরার প্রফুল্লনগরে এক দলীয় নেত্রীর পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শমীক বলেন, ‘বিজেপি হামলার সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করে না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘটনায় কোথাও দলীয় কর্মীরা জড়িত নন। রাজ্যে সরকার বদলের পর তৃণমূল-তৃণমূল মারামারি করছে। আসলে গোটা ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ২৫-৭৫ ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে লড়াই। কেউ পেয়েছে। আর কেউ পায়নি। যাঁরা পাননি, সেই অতৃপ্ত আত্মারা এখন লড়াইয়ে নেমেছেন।’

    অভিষেক এবং কল্যাণের ঘটনার ক্ষেত্রেই পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। তার প্রেক্ষিতে শমীক বলেন, ‘আগে কেউ কেউ দিল্লি গিয়েছেন। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন পাঁচশো পুলিশকর্মী। তাঁদের জন্য স্বাভাবিক পরিষেবার ব্যবস্থা হত না। ১০০ জন মহিলা পুলিশকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে যেতেন। তাঁদের জন্য শৌচালয় থাকত না। তিনটে মাত্র শৌচালয় দিত। তাঁরা ক্ষোভে ফুঁসতেন। তাঁরা আমাদের কাছে সে সব বলতেন। এখন পুলিশের নামে দোষ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পুলিশ কী করবে? তৃণমূলের ভাইয়ে-ভাইয়ে যদি লড়াই হয়, পুলিশ সেখানে কী করতে পারে?’

    পাল্টা জবাব দিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। তিনি বলেন, ‘২০০২ সালের গুজরাতে হিংসার ঘটনার পর সে রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে রাজধর্ম পালনের নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী। লড়াই যাঁদের মধ্যেই থাকুক, পুলিশ প্রশাসন এ সব বরদাস্ত করতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা বলেও একটা বিষয় আছে। সেখানে তো পুলিশ হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না। আজ যদি এক জন সাংসদের সঙ্গে এই ধরনের ঘটনা ঘটে, তা হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? বাংলার সরকার রাজধর্ম পালন করুক।’ তাঁর সংযোজন, ‘আর ওখানে যাঁদের দেখা গিয়েছে, তাঁরা তো বিজেপির সঙ্গেই যুক্ত। কত ছবি তো বেরিয়ে গিয়েছে, যেখানে তাঁদের বিজেপির নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা গিয়েছে।’

  • Link to this news (এই সময়)