• চুঁচুড়া গ্রেপ্তার তৃণমূলের অসিত মজুমদার-সহ পাঁচজন
    আজকাল | ০১ জুন ২০২৬
  • মিল্টন সেন,হুগলি: পুলিশি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ককে জেল হেফাজতের নির্দেশ হুগলি জেলা আদালতের। একইসঙ্গে জেল হেফাজতে আরও চার তৃণমূল নেতা। পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হল পাঁচ তৃণমূল নেতাকে।

    তৃণমূল নেতা অভিষেক ব্যানার্জীকে হেনস্থার প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে চুঁচুড়া পিপুলপাতি মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ অবস্থান শুরু করেন চুঁচুড়া প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন হুগলি চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান সহ কাউন্সিলর এবং অনুগামীরা। রাস্তা অবরোধ করে অবস্থান শুরু হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় চুঁচুড়া থানার পুলিশ আধিকারিকেরা। পুলিশ প্রশাসনের তরফে তাঁকে অবস্থান প্রত্যাহারের কথা বলা হলে পুলিশকে অপমানজনক কথা বলেন অসিত বাবু। শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি। এর পরই অসিত মজুমদার এবং তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু হয় চুঁচুড়া থানায়।

    বেআইনি জমায়েত, গন্ডগোল পাকানোর চেষ্টা, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, সরকারি কর্মচারীকে কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গ জনশৃঙ্খলা রক্ষা আইনে মামলা রুজু করা হয়। এর পর রবিবার সকালে গ্রেপ্তার করা হয় বিধায়ক সহ দশ জনকে।

    ধৃতদের আদালতে পেশ করা হলে বিচারক প্রাক্তন বিধায়ক সহ পাঁচ জনকে চার দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। জেলা হেফাজতে পাঠানো হয় প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার, চেয়ারম্যান সৌমিত্র ঘোষ, হুগলি চুঁচুড়া পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান পার্থ সাহা, তৃণমূল কর্মী কাজী ইমরানুল হক এবং নির্মল চক্রবর্তীকে। একইসঙ্গে পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয় কাউন্সিলর রঞ্জন রাহা, কাউন্সিলর সমীর সরকার, তৃণমূল নেতা সানোয়ার আলি, জয়ন্ত মন্ডল এবং অরুণ দে-কেও।

    উল্লেখ্য, গতকাল ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্তদের দেখতে গিয়ে নিজেই আক্রান্ত হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। বাইকে করে সোনারপুরে ঢোকার মুখে তাঁর গায়ে হাত তোলেন বিক্ষোভকারীরা। এলোপাথাড়ি চড়-ঘুষি মারা হয় মাথায়-ঘাড়ে-গায়ে। ক্রিকেটের হেলমেট মাথায় দিয়ে তৃণমূল সাংসদ তার পরেও এগোতে থাকেন। তখন তাঁর গায়ে ডিম ছোড়া হয়। জুতোও ছোড়া হয়। ছিঁড়ে দেওয়া হয় শার্টের বোতাম। ওই অবস্থায় হেঁটে এগোতে থাকেন তৃণমূল নেতা। বিক্ষোভ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে যায় পুলিশ।
  • Link to this news (আজকাল)