• জুলাই থেকেই রাজ্যে আরও ২ কোটি স্মার্ট মিটার!
    আজকাল | ০১ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে আগামী জুলাই মাস থেকেই শুরু হতে চলেছে স্মার্ট মিটার বসানোর পরের ধাপের কাজ। এই দফায় পশ্চিমবঙ্গের প্রায় দু কোটি বিদ্যুৎ গ্রাহক এই পরিষেবার আওতায় আসতে চলেছেন। কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রী মনোহর লাল রাজ্য সফরকালে বিদ্যুৎ ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের একটি পর্যালোচনা বৈঠকে এই ঘোষণা করেছেন।

    বৈঠক শেষে জানানো হয়েছে, প্রথম দফায় সমস্ত সরকারি অফিস ও বড় ক্যাম্পাসগুলিতে এই মিটার বসানো হবে। এর পরের ধাপে বিদ্যুৎ বেশি ব্যবহার করেন এমন বড় গ্রাহকদের এবং সব শেষে ধাপে ধাপে সাধারণ গৃহস্থদের বাড়িতে এই মিটার দেওয়া হবে।

    গ্রাহকেরা তাঁদের সুবিধা মতো প্রিপেইড (আগে টাকা ভরা) বা পোস্টপেইড (ব্যবহারের পর বিল মেটানো)- যে কোনও একটি ব্যবস্থা বেছে নিতে পারবেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “এই প্রকল্পে প্রতিটি স্মার্ট মিটারের জন্য কেন্দ্র সরকার ৯০০ টাকা করে ভরতুকি দেবে। আর মিটার বসানোর খরচ হিসেবে গ্রাহকদের মাসে আনুমানিক ১০০ টাকা করে দিতে হবে।”

    মন্ত্রীর দাবি, স্মার্ট মিটার চালু হলে বিদ্যুৎ বিলিংয়ের ভুলত্রুটি কমবে, বিদ্যুতের অপচয় বন্ধ হবে এবং গ্রাহকেরা আরও স্পষ্ট ও নির্ভরযোগ্য পরিষেবা পাবেন। বর্তমানে রাজ্যে বিদ্যুৎ পরিবহণ ও বণ্টনজনিত ক্ষতি (টি অ্যান্ড ডি লস) প্রায় ১২ শতাংশ। এই ক্ষতি কমাতেই মূলত জোর দেওয়া হচ্ছে।

    রাজ্যের বিদ্যুৎ ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করতে আগামী দুই মাসের মধ্যে একটি সুসংহত সম্পদ বণ্টন পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যুতের একটি 'সংশোধিত মাশুল কাঠামো' তৈরি এবং বকেয়া মেটানোর বিষয়েও কাজ করছে সরকার। 

    মন্ত্রী জানান, ভরতুকি ও বকেয়া পাওনা মিলিয়ে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা উদ্ধার করা হবে। একই সঙ্গে, গত কয়েক বছরে জমে থাকা প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকার ক্ষতি সামাল দিতেও পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

    শহরের পরিবহণ ব্যবস্থা নিয়ে মন্ত্রী জানান, মেট্রো প্রকল্পের মোট খরচের ১৫ শতাংশ দেবে কেন্দ্র এবং ১৫ শতাংশ দেবে রাজ্য সরকার। বাকি ৭০ শতাংশ টাকা প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ হিসেবে নেওয়া হবে। সাধারণত যে সব শহরের জনসংখ্যা ২৫ লক্ষের বেশি, সেখানেই মেট্রো প্রকল্প গড়ার কথা ভাবা হয়।

    এ ছাড়া, শহরের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ‘আর্বান চ্যালেঞ্জ ফান্ড’ থেকে ৪০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্র ও রাজ্য দেবে ১০,০০০ কোটি টাকা করে। বাকি টাকা আসবে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে।

    শহরের আবর্জনা সাফাই প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে সমস্ত পুরনো ডাম্পিং গ্রাউন্ডের বর্জ্য বৈজ্ঞানিক উপায়ে নষ্ট করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর জন্য কেন্দ্র ৫৫০ কোটি টাকা সাহায্য দেবে।

    পাশাপাশি, ‘ক্লিন হিমালয়ান সিটিস ইনিশিয়েটিভ’-এর অধীনে ১৩টি হিমালয় সংলগ্ন রাজ্যের জন্য ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর আওতায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচ শহর- দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং, শিলিগুড়ি এবং মিরিক। রাজ্যে শৌচাগারের হালহকিকত ও খামতি খতিয়ে দেখতে আগামী এক মাসের মধ্যে একটি বড় সমীক্ষাও চালানো হবে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন।
  • Link to this news (আজকাল)