সমতলে মাথার উপর সূর্য, দোসর আর্দ্রতা; প্রাকৃতিক AC-র খোঁজে দার্জিলিংয়ে ভিড় পর্যটকদের
আজ তক | ০১ জুন ২০২৬
Darjeeling Weather Tourist Rush: সমতলে যখন সূর্যের অগ্নিবাণ, বাতাসে লু-এর দাপট আর তাপমাত্রা ছুঁয়েছে ৪০ ডিগ্রির গণ্ডি, তখন ঠিক উল্টো ছবি পাহাড়ে। তীব্র দাবদাহে হাঁসফাঁস করা আপামর ভারতবাসীর কাছে এই মুহূর্তে চাতক পাখির মতো একমাত্র ভরসা ‘পাহাড়ের রানি’ দার্জিলিং। তীব্র গরম থেকে রেহাই পেতে দলে দলে পর্যটক এখন ছুটছেন শৈলশহরের দিকে। পর্যটকদের কথায়, কৃত্রিম এসির দরকার কী? দার্জিলিং তো নিজেই একটা ‘ন্যাচারাল এসি’!
সাধারণত প্রতি বছর এপ্রিল মাস থেকেই পাহাড়ে পর্যটন মরশুমের ঢল নামে। তবে এবার রাজ্যে নির্বাচন (ভোট) থাকার কারণে শুরুর দিকে ভিড় কিছুটা কম ছিল। কিন্তু ভোট মিটতেই ছবিটা আমূল বদলে গিয়েছে। গত ১০ দিন ধরে এ রাজ্য তো বটেই, পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কাতারে কাতারে পর্যটক ভিড় জমাতে শুরু করেছেন দার্জিলিং পাহাড়ে। থিকথিক করছে ম্যাল থেকে শুরু করে সমস্ত দর্শনীয় স্থান। হোটেল এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অশোক কুমার নাথ চওড়া হাসিতে জানালেন, "ভোট মিটে যাওয়ার পরেই সমতলের স্কুলগুলোতে গরমের ছুটি পড়ে গিয়েছে। আর তার জেরেই পাহাড়ে পর্যটকদের এই বিপুল আগমন। এবারের মরশুম অত্যন্ত রমরমিয়ে চলছে।"
সমতলে ঘাম, পাহাড়ে চাদর-সোয়েটার
আবহাওয়া দপ্তরের খতিয়ান বলছে, সমতলে যখন তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে, সেখানে পাহাড়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বড়জোর ২০ ডিগ্রি। আর রাতের দিকে তো পারদ এক ধাক্কায় নেমে যাচ্ছে ১০ ডিগ্রিতে! আজ দিনের বেলাতেই তাপমাত্রা ছিল ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তার ওপর ঠান্ডা কনকনে হাওয়া, সঙ্গে উপরি পাওনা হালকা ঝিরঝিরে বৃষ্টি আর কুয়াশার লুকোচুরি। প্রকৃতির এই রূপ তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করছেন সমতল থেকে আসা মানুষজন।
তবে এই মরশুমে এসে এক অদ্ভুত কাণ্ডও ঘটছে শৈলশহরে। সমতলের তীব্র গরমের কথা মাথায় রেখে অনেক পর্যটকই শুধু সুতির হালকা জামাকাপড় নিয়ে পাহাড়ে চলে এসেছিলেন। কিন্তু এখানে এসে কনকনে ঠান্ডায় তাঁদের কাঁপুনী ধরার জোগাড়! ফলে দার্জিলিংয়ের বাজার থেকে দেদার সোয়েটার এবং গরম পোশাক কিনতে হচ্ছে তাঁদের। কলকাতা থেকে আসা প্রথমবার দার্জিলিং দর্শনার্থী সুনীতা তিওয়ারি শীতে কাঁপতে কাঁপতে জানালেন, "কলকাতায় ৪০ ডিগ্রির ওপর তাপমাত্রা, আর এখানে ১৫ ডিগ্রি। আমরা তো শুধু গরমের হালকা পোশাক নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু রাতের কনকনে ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচতে বাধ্য হয়ে এখানে এসে সোয়েটার কিনতে হলো।"
একই সুর দিল্লির এক পর্যটকের গলাতেও। তিনি আক্ষেপের সুরে বললেন, "দিল্লির মারাত্মক গরমের পর এখানে এসে স্বর্গসুখ পাচ্ছি। এই মনোরম আবহাওয়া ছেড়ে একদম ফিরতে ইচ্ছে করছে না। ভাবলেই মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে যে, এই ‘ন্যাচারাল এসি’ ছেড়ে আবার আমাদের সেই সমতলের গনগনে গরমে ফিরে যেতে হবে।" সব মিলিয়ে, সমতলের হাঁসফাঁস গরমকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দার্জিলিং এখন মেতে উঠেছে উৎসবের মেজাজে।