Abhishek Banerjee Attack Row: সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। হামলার নেপথ্যে কারা? চলছে তীব্র চাপানউতোর। তৃণমূলের দাবি, এটি বিজেপির পরিকল্পিত হামলা। বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন অভিষেক। সেই সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম, ইট-পাটকেল ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। পরে ধস্তাধস্তি ও শারীরিক নিগ্রহেরও অভিযোগ ওঠে। ঘ
ঘটনার পর তৃণমূলের তরফে একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। দলের দাবি, সেখানে বিজেপির এক মণ্ডল সভাপতিকে দেখা গিয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে বিক্ষোভকারীদের উস্কানি দিচ্ছিলেন। TMC-র প্রশ্ন, যদি এটি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ হয়, তবে বিজেপির মণ্ডল সভাপতি সেখানে কী করছিলেন? ভিড় জড়োই বা করল কারা?
তৃণমূলের অভিযোগের জবাবে এক্স পোস্ট করেন বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য। তাঁর দাবি, ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া কয়েকজনের সঙ্গে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক লাভলি মৈত্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তিনি লেখেন, 'প্রশ্ন উঠছে, ঘটনাটি আদৌ রাজনৈতিক হামলা, না কি তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল।'
তবে বিজেপির দাবি উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। তারা আরও একটি ছবি প্রকাশ করে এক ব্যক্তিকে হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি করেছে। তৃণমূলের বক্তব্য, ওই ব্যক্তি বিজেপি কর্মী। সোশ্যাল মিডিয়াতেও বিজেপি সংক্রান্ত পোস্ট করেন ওই ব্যক্তি। বিজেপির বিরুদ্ধে আসল ঘটনা থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টার অভিযোগও তুলেছে শাসকদল।
পুলিশ সূত্রে খবর, হামলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভিডিও খতিয়ে দেখে পুলিশ। রাতভর অভিযান চালিয়ে তাঁদের ধরা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, অভিষেকের উপর হামলার সময় কয়েকশো মানুষের ভিড় ছিল। বিক্ষোভকারীদের একাংশ তাঁর উদ্দেশে স্লোগানও দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিরাপত্তারক্ষীরা কোনওমতে তাঁকে হেলমেট পরিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান।
ঘটনার পর কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল অভিষেককে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে হাসপাতালে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার জন্য বিজেপিকেই দায়ী করেন।
অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানান, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর দলের কোনও যোগ নেই। তবে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকে স্থানীয় মানুষের প্রতিক্রিয়া হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। পাশাপাশি সবাইকে সংযত থাকতে ও শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানান।
পুলিশ সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত অভিষেক বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।