দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে জনবহুল বাজারের পাশে থাকা শৌচাগার বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তৃণমূল পরিচালিত বনগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ মজুমদারকে প্রকাশ্যে ধমক দিলেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। অভিযোগ, ২-১ জন ব্যবসায়ীর স্বার্থে ওই বাথরুমটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। এই নিয়ে রবিবারই মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানান বাকি ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, বাজারে প্রায় দেড় হাজার ব্যবসায়ী রয়েছেন। ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের বাথরুম করার কোনও জায়গা নেই ৷ বিকল্প শৌচালয় তৈরি না করে পুরনোটি ভেঙে ফেলায় ক্ষুব্ধ হন ব্যবসায়ীরা। মন্ত্রী নির্দেশ দেন, অবিলম্বে ব্যবসায়ীরা যেখানে বলবেন, সেখানে শৌচালয় তৈরি করে দিতে হবে পুরসভাকে।
রবিবার সকালে বনগাঁর বিচুলিহাতা এলাকায় দীর্ঘদিন আগে রাস্তার পাশে তৈরি হওয়া ময়লা ফেলার ভ্যাট, শৌচালয় বুলডোজার দিয়ে ভেঙে পরিষ্কার করে পুরসভা ৷ পুরসভার তরফে দাবি করা হয়েছে, এই শৌচালয়ের জন্য ভিতরে একটি গাড়িও ঢুকতে পারত না ৷ ময়লা, আবর্জনা, দুর্গন্ধে বাজারে ক্রেতারা আসা বন্ধ করে দিয়েছিলেন৷ এই এলাকায় পুজো, কীর্তনও হয়। এই সব বিষয় বিবেচনা করে গতকাল বোর্ড মিটিং করে সর্বসম্মতক্রমে কাউন্সিলররা শৌচালয় ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর রবিবারই বুলডোজার দিয়ে শৌচালয় ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন পুরসভার চেয়ারম্যান। জানা গিয়েছে, মোট পাঁচটি বিল্ডিং ভাঙার সিদ্ধান্ত হয়েছিল বোর্ড মিটিংয়ে।
এবিষয়ে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা বনগাঁর বিধায়ক তথা মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়াকে ফোন করে বিষয়টি জানান। এরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরসভার চেয়ারম্যানের উপর বেজায় চটে যান অশোক ৷ চেয়ারম্যান দিলীপ মজুমদারকে তিনি ধমক দিয়ে বলেন, “তোমাকে ভাঙার অর্ডার কে দিয়েছে? এতদিন ভেঙোনি কেন? দালালি কম করো। বনগাঁয় না তৃণমূলের গুন্ডামি হবে, না বিজেপির গুন্ডামি হবে ৷ আমার ঘাড়ে বদনাম তুমি কেন দিলে? বনগাঁর ব্যবসায়ীরা আমাকে কেন বলছে, বিজেপি সরকার আসার পরে এটা হচ্ছে কেন ? এতদিন ভেঙে দাওনি কেন ?” অশোকবাবু আরও জানান, অবৈধ কিছু ভাঙতে হলে প্রথমে এসডিও, তারপর মন্ত্রীকে জানাতে হয়। আমি নিজে দেখেছি এখানে দীর্ঘদিন শৌচাগার রয়েছে ৷ ব্যক্তি স্বার্থে শৌচালয় ভেঙে দিতে হবে, এটা মেনে নেব না ৷ ব্যবসায়ীরা যেখানে বলবেন সেখানে ফের শৌচালয় করে দিতে হবে।