অসুস্থ অভিষেককে দেখতে পটুয়াপাড়ায় মমতা, বাকি টেস্ট করানো নিয়ে তৎপরতা
eTV Bharat | ৩১ মে ২০২৬
কলকাতা, 31 মে: গতকাল সোনারপুরের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনার পর থেকে বাড়িতেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ তাঁকে দেখতে পটুয়াপাড়ার বাসভবনে যান তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, এদিনই কালীঘাটে দলীয় বিধায়কদের নিয়ে পূর্বনির্ধারিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আচমকাই স্থগিত হয়ে যায়। জানা গিয়েছে, প্রায় 80 জন বিধায়কের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও মাত্র 20 জন বৈঠকে হাজির হয়েছিলেন। শীর্ষ নেতার অসুস্থতার পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরে বিধায়কদের এই ব্যাপক অনুপস্থিতি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
সোনারপুরের ঘটনার পর থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রবল উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে তিনি নিজের বাড়িতেই চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এদিন বিকেলে অভিষেককে দেখতে রীতিমতো উদ্বিগ্ন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বাসভবনে পৌঁছন। তাঁর সঙ্গে এদিন উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ-সহ শাসক দলের প্রথম সারির নেতৃত্বের একাংশ। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান তিনি। তবে অভিষেকের বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় বাইরে অপেক্ষারত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা তৃণমূল নেত্রীকে প্রশ্ন করলেও তিনি কোনও উত্তর দেননি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থা ঠিক কেমন, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কার্যত মুখে কুলুপ আঁটেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
তৃণমূল সুপ্রিমো মুখ না খুললেও, পরে অভিষেকের বাসভবনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আপডেট দেন দলের নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি জানান, চিকিৎসকদের তরফ থেকে অভিষেককে কিছু শারীরিক পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হলেও তা এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, "গতকাল ডাক্তাররা যে সমস্ত টেস্ট করানোর কথা বলেছিলেন, সেগুলি এখনও করানো যায়নি। কীভাবে এবং কোথায় দ্রুত সেই টেস্টগুলি করানো যায়, বর্তমানে সেই প্রক্রিয়াটিই সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।" তাঁর এই মন্তব্যের পরেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিকিৎসা প্রক্রিয়া এখনও প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে যথেষ্ট তৎপর।
তবে শুধুমাত্র অভিষেকের অসুস্থতার খবরই নয়, আজকের দিনে রাজনৈতিক মহলে সবথেকে বেশি আলোড়ন ফেলেছে কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের বৈঠক বাতিল হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, আজ দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে তৃণমূল নেত্রীর একটি বিশেষ রণকৌশলগত বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, সেই বৈঠকে জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতির হার ছিল চূড়ান্ত হতাশাজনক। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় 80 জন বিধায়কের এই বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে কালীঘাটে হাজির হয়েছিলেন মাত্র 20 জন বিধায়ক। এত বড় সংখ্যক বিধায়কের এই আকস্মিক এবং অপ্রত্যাশিত অনুপস্থিতির পরেই বাধ্য হয়ে বৈঠকটি স্থগিত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় শীর্ষ নেতৃত্ব। কেন দলের এত জন গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রতিনিধি পূর্বনির্ধারিত একটি বৈঠকে একসঙ্গে গরহাজির থাকলেন, তা নিয়ে দলের অন্দরেই নানা গুঞ্জন শুরু হয়ে গিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, 2026 সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পথচলা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠেছে। শুধুমাত্র শাসক দলের তরফ থেকে আসা লাগাতার রাজনৈতিক আক্রমণই নয়, বরং দলের নিজস্ব সংগঠনকে অটুট রাখাও এখন তৃণমূল নেত্রীর কাছে পদে পদে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকের বৈঠকে এই বিপুল সংখ্যক বিধায়কের গরহাজিরা সেই অভ্যন্তরীণ সঙ্কটেরই একটি সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। আলোচকদের মতে, এই অনুপস্থিতি কি আদতে দলের প্রতি জনপ্রতিনিধিদের একাংশের অনাস্থা? নাকি এর পিছনে অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করছে?
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দলের অভ্যন্তরে যদি সত্যিই কোনও বড় ধরনের ক্ষোভ তৈরি হয়ে থাকে, তবে তা তৃণমূল কংগ্রেসের আগামী দিনের লড়াইয়ের জন্য একেবারেই সুখকর হবে না। একদিকে শাসক শিবিরের ক্রমাগত আক্রমণাত্মক চাপ এবং অন্যদিকে নিজেদের ঘর গুছিয়ে রাখার আপ্রাণ লড়াই— সব মিলিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক সংগ্রাম যে প্রত্যেকদিন আরও কঠিন হচ্ছে, সেই বিষয়ে কার্যত একমত সমস্ত স্তরের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দলের সুপ্রিমো আগামী দিনে কীভাবে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করেন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থার কী উন্নতি হয়, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।